ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে তিন দফা দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের টানা প্রায় তিন ঘণ্টা রেলপথ অবরোধের পর খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার দাবিতে সকাল ১০টার পর থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেয়ে বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা রেলপথ অবরোধ তুলে নিয়েছেন। এতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা সেটির গতিপথ আটকে দেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এ অবরোধের ফলে খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে ট্রেন। দুর্ভোগে পড়েন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবিতে তাদের তিন দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—অন্তত দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তনগর ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
অবরোধের খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলওয়ের একটি প্রতিনিধি দল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
অবরোধ চলাকালে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পেয়ে অনেকের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিকের বিষয়ে জানতে চেয়ে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আন্দোলন কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।