ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পাবনায় চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আরও এক ট্রেনযাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন পাবনা রেল স্টেশনে পৌঁছানোর ঠিক আগমুহূর্তে গাছপাড়া এলাকায় পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে।
চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার এ ঘটনা ঘটে গত রোববার (১৮ অক্টোবর)। গুরুতর আহত যাত্রী পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল টেকনোলজি বিভাগের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী ও সাঁথিয়ার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আনসার আলী প্রামানিকের ছেলে সান্টু মিয়া (৩২)।
ঘটনার দিন জানালা ভেদ করে পাথর সোজা এসে সান্টু মিয়ার মাথায় আঘাত করলে ট্রেনের ভেতরেই তার খিঁচুনি শুরু হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সেখানে তাকে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনে আকস্মিক পাথর এসে পড়ার পর মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনে ভ্রমণের সময় সান্টু মিয়ার মতো যুবকের এমন পরিণতি সমগ্র জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ঢালারচর-রাজশাহী রুটে ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ চালু হয়। ওই বছরই ১২ ফেব্রুয়ারি বেড়া ও সাঁথিয়ার মাঝামাঝি স্থানে ট্রেনে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করা হলে ১০ জনেরও বেশি যাত্রী আহত হন। একই ঘটনায় ১৮টি জানালার কাচ ভেঙে যায়। পরবর্তীতে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তা কিছুটা হ্রাস পেলেও সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
গত এক মাসেই প্রায় ২০টিরও বেশি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর দুবলিয়া ও তাঁতিবন্ধ স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে সন্ধ্যায় চলন্ত ঢালারচর এক্সপ্রেসের উভয় পাশ থেকে পাঁচটি বগি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। এতে শিক্ষার্থী মাসুদ রানাসহ অন্তত ৭-৮ জন যাত্রী আহত হন। ট্রেনে কর্তব্যরত কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রী সন্ধ্যা নামলেই সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলা অংশে ট্রেনের প্রতিটি জানালার কাছে মৃত্যুর আতঙ্ক নিয়ে যাত্রা করতে বাধ্য হন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা একটি অত্যন্ত গুরুতর ও জামিন অযোগ্য অপরাধ। দ্য রেলওয়ে অ্যাক্ট অনুযায়ী, এ জাতীয় অপরাধের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদণ্ডেরও বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ চোখে পড়ে না।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে (পাকশী) সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে আটক হওয়া অপরাধীদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোর হওয়ায় তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ফলে চরম সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং নজরদারির ঢিলেঢালা ভাব পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও অনিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য এমন অপরাধ দিনের পর দিন ঘটতে থাকায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে, আমাদের সব বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। সব মামলাগুলো নিয়েই আমরা কাজ করছি। ২০২৪ সালের চারটি এবং ২০২৬ সালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী পলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। পাথর যারা ছোড়ে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ব্যাপারে জানতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের (ডিআরএম) সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।