|

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজারে মহানগর এক্সপ্রেস

কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল, যুক্ত থাকছেন মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীরা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল, যুক্ত থাকছেন মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীরা

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথ আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সরাসরি কক্সবাজার যাতায়াতের সুযোগ পাবেন বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা। তবে রুট সম্প্রসারণের সঙ্গে কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হচ্ছে। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার ছাড়াও স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থে ভ্রমণের সুবিধা থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পর থেকেই এ পথে আরো ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চার জোড়া ট্রেনের পর পঞ্চম ট্রেন হিসেবে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন নির্ধারিত স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে ট্রেনটি সরাসরি কক্সবাজারে যাত্রী পরিবহন করবে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে এ সেবা চালু করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এ পথে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জোড়া হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছবে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। অন্যদিকে ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছবে পরদিন রাত ২টা ৪০ মিনিটে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে ট্রেনটি সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছবে।

ট্রেনটি চালু হলে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলা ছাড়াও নাঙ্গলকোট, লাকসাম, কসবা, আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও ভৈরববাজার স্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চালু হলেও মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীরা এসব ট্রেনে সরাসরি ভ্রমণের সুযোগ পেতেন না। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম থেকেও দৈনিক দুই জোড়া ট্রেন কক্সবাজার পর্যন্ত চালু করা হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনে কক্সবাজার যেতে আগ্রহীদের ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে গিয়ে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো।

এতে সংযোগকারী ট্রেন বা অন্যান্য যানবাহনের বিলম্বের কারণে কক্সবাজারগামী ট্রেন ধরতে না পারার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি আগাম টিকিট কেনার পরও নির্ধারিত ট্রেন ধরতে না পেরে যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে অনেককে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীরাও সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে আন্তজেলা রেল যোগাযোগের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রটিতে যাতায়াতও সহজ হবে।

নতুন রুটে চলাচল শুরু হলে কুমিরা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি থাকবে না। ফলে এ স্টেশনের যাত্রীদের ট্রেনটিতে ওঠানামার সুযোগ বন্ধ হবে। বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরাসহ বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। নতুন সূচিতে কুমিরা বাদ পড়ায় এ স্টেশনের যাত্রীদের বিকল্প ট্রেন বা পরিবহন ব্যবহার করতে হবে।

রেলওয়ের জারি করা আদেশে ট্রেনটির কোচ কম্পোজিশন, আসন ব্যবস্থাপনা, টিকিট বিক্রি, ইঞ্জিন ও জনবল সরবরাহ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আদেশে কোরিয়ান কোচ ব্যবহারের পাশাপাশি ট্রেনটিতে মোট ১৬টি কোচ ও ১ হাজার ৩৬৬টি আসনের ব্যবস্থা রাখার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। প্রায় ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের রানিং টাইম নিয়ে মহানগর এক্সপ্রেস পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে দীর্ঘ রুটের ট্রেন হতে যাচ্ছে। যদিও এই রুটের পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় ৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট রানিং টাইম নিয়ে যাত্রী পরিবহন করতে পারে।

এদিকে নতুন ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশের সিঙ্গেল লাইন এবং কয়েকটি স্টেশনের স্বল্প দৈর্ঘ্যের লুপলাইনের কারণে বিপরীতমুখী ট্রেনের ক্রসিংয়ে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। বিশেষ করে ১৬/৩২ কম্পোজিশনের অতিরিক্ত কোচ সংযোজন হলে ক্রসিং জটিলতায় চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ট্র্যাক সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে সময়ানুবর্তিতা ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন পরিচালনা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পর্যটন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণ কার্যকর হলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়াও মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য কক্সবাজারে সরাসরি রেল যোগাযোগের সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে। বর্তমানে ঢাকা থেকে আংশিক বিরতি দিয়ে দুই জোড়া এবং চট্টগ্রাম থেকে একাধিক বিরতিযুক্ত দুই জোড়া ট্রেন কক্সবাজারে যাত্রী পরিবহন করে। রুট সম্প্রসারিত ট্রেনটি চালু হলে এই রুটের অন্যান্য ট্রেনগুলোর রানিং টাইম ধরে রাখতে হিমসিম খেতে হবে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগকে। সূত্র বণিক বার্তা

Advertise with us
Advertise with us
চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ...
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
পদ্মায় ইলিশ ধরায় ১০ জেলের...
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact