|

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, শর্তসাপেক্ষে অনুমতির দাবি বারভিডার

  |   বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, শর্তসাপেক্ষে অনুমতির দাবি বারভিডার

ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

সংগঠনটির মতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে বয়সসীমা, ব্যাটারির সক্ষমতা, কারিগরি পরিদর্শন ও নিরাপত্তার মতো শর্ত আরোপ করে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা সম্ভব হবে।

এ দাবিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বারভিডা। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কনটেইনার গায়েব, ২ জেটি সরকার গ্রেফতার

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী, সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হাবিবুর, ফরিদসহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

বারভিডা বলেছে, মোটরগাড়ি শিল্পের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে বাংলাদেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, প্রশিক্ষিত কারিগরি জনবল তৈরি এবং সার্ভিসিং অবকাঠামো গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১৯৯৫ সালে ভিভিটি-আই (VVT-i) প্রযুক্তি এবং ১৯৯৭ সালে হাইব্রিড প্রযুক্তির মোটরগাড়ির গণউৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বে নতুন প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এসব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ে।

চট্টগ্রাম বন্দরে কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব, তদন্ত কমিটি গঠন

সংগঠনটির ভাষ্য, ২০০৯ সালে শুল্ক প্রণোদনাসহ নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি সক্ষমতা এবং হাইব্রিড ব্যাটারির জীবনচক্র নিয়ে বিভিন্ন আশঙ্কা দেখিয়ে তখন এ ধরনের গাড়ি আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরে হাইব্রিড প্রযুক্তি, এর কারিগরি দিক এবং বিশ্ববাজারের তথ্য-উপাত্ত সরকারের কাছে তুলে ধরার পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এর ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজার সম্প্রসারিত হয় বলে তাদের দাবি।

বারভিডা মনে করে, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভির ক্ষেত্রেও সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে নিয়ন্ত্রিত আমদানি কাঠামো করা উচিত।

সংগঠনটির অভিযোগ, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহৃত গাড়ি আমদানির সুযোগ সীমিত করার নীতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ নিয়ে এ আপত্তি জানিয়েছে বারভিডা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আমদানি নীতি আদেশটি ২০২৬ সালের ২৫ আগস্টে প্রকাশের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ

বারভিডা বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন ইভি উৎপাদনকারী দেশ থেকে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। জাপান থেকে টয়োটা, নিশান, সুবারু, লেক্সাস ও হোন্ডার মতো ব্র্যান্ডের পাশাপাশি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকেও ব্যবহৃত ইভির রপ্তানি বাড়ছে।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন শর্ত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১০ বছর বয়সী ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। জর্জিয়ায় ছয় বছর, কেনিয়ায় আট বছর এবং সৌদি আরবে পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সী ইভি শর্তসাপেক্ষে আমদানি করা যায়। আর পাকিস্তানে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ তিন বছর বয়সী এবং শ্রীলঙ্কায় শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বয়সসীমা ছাড়াই, কাজাখস্তানে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধানের আলোকে এবং অস্ট্রেলিয়ায় অভ্যন্তরীণ বিধিবিধান মেনে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। রাশিয়ায় সবার জন্য প্রযোজ্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই; নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানি করা যায় বলেও জানিয়েছে তারা।

বারভিডার মতে, এসব দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ব্যবহৃত ইভি আমদানিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে গাড়ির বয়স, ব্যাটারির সক্ষমতা, নিরাপত্তা, কারিগরি মান ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে শর্ত আরোপ করা যায়।

পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির প্রস্তাব

ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির জন্য আট দফা প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা। এর প্রথমটিতে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ৭০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত বা উৎপাদিত এবং আমদানি করা নতুন ইভির ব্যাটারির আয়ুষ্কাল সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না

তৃতীয় প্রস্তাবে আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ির কার্যকর পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ প্রস্তাবে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইভি আমদানি নিষিদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, ইভি ব্যাটারির জন্য ব্যাটারি রিসাইক্লিং ও নিরাপদ অপসারণ কাঠামো প্রণয়ন, চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে প্রকৃত বিনিয়োগে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ইভির জন্য বিদ্যমান মূল্যস্তরভিত্তিক শুল্ক-কর কাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে আলোচনা করে পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা।

সংগঠনটি আরও বলেছে, নির্দিষ্ট সময় পর নীতির ফলাফল মূল্যায়ন করে ইভির বয়সসীমা ও অন্যান্য শর্ত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা নয়, সুষম নীতি

বারভিডার মতে, বাংলাদেশ এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এসব লক্ষ্যকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়েই ইভি–সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করা উচিত।

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও ইভি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (পিএইচইভি) ও চার্জিং অবকাঠামোর ক্ষেত্রে শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

টানা গ্যাস সংকটে ধুঁকছে চট্টগ্রাম,সড়কে দীর্ঘ লাইন

বারভিডা বলেছে, তারা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছে না; বরং ইভি খাতের জন্য একটি বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী নীতি চায়। তাদের ভাষায়, একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে।

এ জন্য আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে ‘শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিযোগ্য’— এমন বিধান করে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বারভিডার মতে, এতে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নতুন প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশে ইভি-সংক্রান্ত সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক, রিসাইক্লিং ও চার্জিং অবকাঠামো গড়ে ওঠার পথও প্রশস্ত হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার...
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস...
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভৈরব নদে ট্রলার ডুবি, ৭...
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact