| বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে ব্যাপক ভোগান্তি। গ্যাস সংকটে অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। একই সংকটের কারণে নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও গাড়ির সারি এক থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক সিএনজি অটোরিকশা সড়কে নামতে পারছে না।
গ্যাস সংকটের সুযোগে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও হেলপারদের কথাকাটাকাটি, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। ফলে গ্যাস সংকট শুধু আবাসিক ও পরিবহন খাতেই নয়, নগরের সামগ্রিক জনজীবনেও এর প্রভাব পড়ছে।
মঙ্গলবার নগরের ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি ফিলিং স্টেশন ছাড়িয়ে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত চলে গেছে।
গ্যাস নিতে আসা সিএনজি অটোরিকশাচালক নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। বেলা ১১টা পর্যন্ত এ পর্যন্ত এসেছি। আমার আগে আরও অন্তত ৭০-৮০টি গাড়ি আছে। এভাবে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার আগে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না। দিনের অর্ধেক চলে যায় গ্যাস নিতে। এরপর কখন গাড়ি চালাবো, আর কখন গাড়ি ভাড়া তুলবো সে হিসাব মেলাতে পারছি না।’
গ্যাস সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন নগরের হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল। তিনি বলেন, ‘নগরের অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে ৩ নম্বর বাসে ভাড়া ৫ টাকা করে। গত দুই-তিন দিন ধরে উঠানামা ১০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মুরাদপুর থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা হলেও নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। গ্যাসচালিত পরিবহনে ভাড়া ৫ টাকা হলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। একই অবস্থা গ্যাসচালিত টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহনেও। তবে গ্যাসের দাম না বাড়লেও গাড়িভাড়া বৃদ্ধি করায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছেই।’
চট্টগ্রাম মহানগর সিএনজি অটোরিকশা-অটোটেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখনও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। দিনের বেলায় অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকে। রাতেও সবগুলো চালু থাকে না। একটি গাড়ি সিরিয়াল দেওয়ার ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা আগে গ্যাস মিলছে না। গ্যাসের এমন সমস্যার কারণে অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কিছুটা ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। গ্যাস স্বাভাবিক হলে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ হয়ে যাবে।’
নগরের খুলশী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এখনও চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ফিলিং স্টেশনে রাত ১২টা-১টার দিকে গ্যাস আসে, আবার সকাল ৮টার দিকে চলে যায়। গত এক মাস ধরে এ অবস্থা। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে গ্যাস দেওয়ার জন্য ৫১টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তবে সবগুলোতে একই সময়ে গ্যাস থাকে না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হচ্ছে। কখন এই সমস্যা সমাধান হবে, তা জানা নেই।’
কবে গ্যাস সংকট কাটবে জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) প্রকৌশলী মু. রইস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সোমবার সরবরাহ করা হয়েছে ২৭১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই ঘাটতির কারণেই আবাসিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহন—সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।’
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সোমবার কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।’
নগরের বাসিন্দারা বলছেন, চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে আবাসিক গ্রাহকদের রান্না থেকে শুরু করে পরিবহন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। কবে নাগাদ সংকট কাটবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।
সূত্র বাংলা ট্রিবিউন