ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন কাজের সুবাদে হাজারো নারী ছুটছেন। কেউ অফিসে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউবা আবার ব্যবসার কাজে। গন্তব্য তাদের আলাদা। কিন্তু পথে একটা অস্বস্তি যেন প্রায় সবারই চেনা। এই যেমন বাসে উঠলেই ঠাসাঠাসি ভিড়। তার মধ্যে আছে হেলপার বা সহযাত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়।
একই ভয় সিএনজিতে উঠার ক্ষেত্রেও। এছাড়া রাইড-শেয়ারিংয়ের বাইকে উঠতে গেলেও অনেক নারী দ্বিধায় থাকেন। অপরিচিত কোনো পুরুষের পেছনে বসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মতো বিষয়টি কারও কারও কাছে বেশ অস্বস্তিকরও। সাথে নিরাপত্তার চিন্তা তো আছেই।
যাত্রাপথে নারীদের এমন সব ভোগান্তি নিয়েই একদিন কথা হচ্ছিল ফাহাদ চৌধূরী ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের মধ্যে। জান্নাত তার প্রতিদিনের দেখা অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। আলাপ চলছিলো ঢাকার পথে নারী যাত্রীরা কেমন সব সমস্যায় পড়েন, কীভাবে যানবাহনে বিভিন্ন খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। আবার একই সাথে ঢাকার রাস্তায় জান্নাত নারী বাইক চালকের দেখাও পেয়েছেন বহুবার। এসব কথার ভিড়ে তার মাথায় জন্ম নেয় নারীদের জন্য নারী চালক দ্বারা রাইড শেয়ারিং এর ভাবনা।
বিষয়টি ফাহাদকে জানালে তিনি বেশ গুরুত্বের সাথে সেটি আমলে নেন। তারপর পরিকল্পনা মোতাবেক একটি ওয়েবসাইট চালু করেন। নাম দেওয়া হয় ‘মায়া রাইড’। মূলত নারীদের জন্য তৈরি একটি রাইড প্ল্যাটফর্ম এটি। যেখানে নারী রাইডাররা শুধু নারী যাত্রীদেরই গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।
“আমি যেহেতু ডেটা মার্কেটিংয়ে আট বছর ধরে কাজ করছি, ভাবলাম একটা এক্সপেরিমেন্ট করি,” বললেন ফাহাদ। সেই ছোট্ট এক্সপেরিমেন্টই ধীরে ধীরে পরিণত হয় একটি প্ল্যাটফর্মে।
ফাহাদ চৌধুরী ও জান্নাতুল ফেরদৌস দুজনেরই বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ফাহাদ এ লেভেল এবং ও লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান লন্ডনে। সেখানে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স এবং ডেটা সায়েন্সে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে জান্নাত লন্ডন সাউথ ব্যাংক থেকে এলএলবি পড়ছেন।
দুজনের জীবনের নানা কর্মব্যস্ততার মাঝে ‘মায়া রাইড’ এর কাজটিও করেন বেশ উদ্যমের সাথে। তবে কোনো ব্যবসায়িক স্বপ্ন নিয়ে এটি শুরু করেননি তারা। বরং চেয়েছিলেন পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কিছু করতে, যা থেকে টাকা আয়ের পাশাপাশি মানুষের উপকারও করা যাবে।
জান্নাত বলেন, “আমি ঢাকায় প্রায়ই দেখতাম বাইকে বসে অনেক আপুই কম্ফোর্ট ফিল করছে না। নিজেও ভাবতাম, আমার ক্ষেত্রেও এমনটা হলে হয়তো ভালো লাগত না। এই বিষয়টা আমার মাথায় খুব করে গেঁথে যায়,” বলেন তিনি।
৭০ জন নারী বাইক রাইডার
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে চালু হয় মায়া রাইডের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ। এরপর কিছুদিন পার হলে অনেক নারী বাইক চালক নিজ থেকেই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শুরুতেই যুক্ত হন ৪ জন। ধীরে ধীরে সে সংখ্যা বাড়তে থাকে।
মাস চারেকের মাথায় রাইডারের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭০ জনে। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন বর্তমানে সক্রিয়ভাবে রাইড দেওয়ার কাজটি করে যাচ্ছেন। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যে নারী চালক ও নারী গ্রাহকের ব্যাপকভাবে সাড়া পাবেন তা ভাবেননি জান্নাত বা ফাহাদ—দুজনের কেউই।
অবশ্য শুরুতে বাইক চালকদের কাছ থেকেই বেশি সাড়া মিললেও কার রাইডের জন্য নিজেদের গাড়ি থাকা নারীরাও আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসেন। এখন মায়া রাইডের সাথে যুক্ত আছেন প্রায় ২৫ জন নারী কার চালক। নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে তারা এই কাজে যুক্ত হন। তাদের মধ্যে নিয়মিত রাইড দেন ৪ থেকে ৫ জন নারী।
যদিও মায়া রাইড এর যাত্রা শুরুর আগে ফাহাদ বা জান্নাত কেউই জানতেন না মানুষ কীভাবে তাদের এই উদ্যোগটিকে গ্রহণ করবে। বিষয়টি বেশ ভাবায় তাদের। কারণ ঢাকায় উবার, পাঠাও-এর মতো পরিচিত রাইড শেয়ারিং সেবা রয়েছে। জনপ্রিয় এই সেবা বাদ দিয়ে একজন নারী কেন নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম বেছে নেবেন? চ্যালেঞ্জটা ছিল ঠিক এখানেই।
কিন্তু রাইডার আর যাত্রীদের সাড়া তাদের অবাক করে। মাত্র ৪ মাসের মাথায় বাইক রাইড হয় ৩০০টিরও বেশি। এছাড়া গ্রাহকদেরও বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। এমনও হয়েছে শুরুর দিকে একজন গ্রাহক ২২ বারের বেশি ‘মায়া রাইড’কে বেছে নিয়েছেন। কেউ কেউ তারও বেশি।
‘চিন্তাহীন যাতায়াত করতে পারি’
নুঝাত তাবাসসুম এমনই একজন গ্রাহক। ৩০ বারের অধিক মায়া রাইড এর সেবা নিয়েছেন তিনি। ঢাকার শ্যামলীর বাসিন্দা নুঝাত। ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিত গুলশান-১-এ অফিসে যাতায়াত করতে হয় তাকে। নিজের গাড়ি থাকলেও সবসময় সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের সময় যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল তার জন্য।
বিভিন্ন সময়ে বাস, সিএনজি কিংবা প্রচলিত রাইড-শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনাও পোহাতে হয়েছে তাকে। ব্যস্ত সময়ে সিএনজি না পাওয়া, দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি পুরুষ রাইডারের সঙ্গে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়টিও ভাবতে হতো। একদিন অফিসের এক সহকর্মীর কাছ থেকেই ‘মায়া রাইড’-এর কথা জানতে পারেন নুঝাত।
প্রথমবার রাইড নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভালো লাগলে একাধিকবার তিনি এই সার্ভিস নেন। তার কাছে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় ছিল, চালকের আসনে একজন নারী। এতে যাতায়াতে আরামের পাশাপাশি নিরাপদবোধও করেছেন।
তিনি বলেন, “এইটা সত্য যে পাঠাও উবারের তুলনায় এটায় কস্ট (খরচ) কিছুটা বেশি। কিন্তু এখানে যেভাবে নিজেকে সেইফ লাগে, চিন্তাহীন যাতায়াত করতে পারি, সেটির তুলনায় এই বাড়তি খরচটুকু সার্থক বলতে পারেন।”
মায়া রাইডের ভাড়া অন্যান্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের তুলনায় কিছুটা যে বেশি, সেটি জানালেন জান্নাতও। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যে পরিমাণ চালক দরকার, এখনো সেটি তাদের নেই। ফলে নির্দিষ্ট কোনো যাত্রীকে নিয়ে রাইডারদের অনেক সময় ঢাকার অলিগলি পর্যন্ত যেতে হয়। এমনকি অনেক সময় তাদের বেশ দূর থেকে এসে যাত্রীকে সার্ভিস দিতে হয়। তাতে স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়ে।
তবে জান্নাত এবং ফাহাদের লক্ষ্য ভাড়া কমিয়ে আনা। সেটি করতে হলে প্রয়োজন আরও বেশি নারী চালক। তাই আপাতত সে সংখ্যা বাড়ানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন তিনি। এতে করে ভাড়া যেমন কমানো সম্ভব হবে, তেমনি গ্রাহকের সংখ্যাও দ্বিগুণ হবে বলে বিশ্বাস তাদের।
নারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চালকদের যুক্ত করার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাইয়ের কথা জানালেন ফাহাদ। মায়া রাইডের সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে একটি ফর্ম পূরণ করতে হয় চালকদের। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, চালকের ছবি, গাড়ি বা বাইকের নম্বর এবং যোগাযোগের সকল তথ্য রাখা হয় সংগ্রহে।
এর মধ্যে যারা খুব সম্প্রতি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন কিংবা যাদের অভিজ্ঞতা খুব কম সময়ের, তাদের দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হয় না। অন্তত এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকা রাইডারদের আগে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানালেন ফাহাদ। এছাড়া রাইডাররা মূলত ফেসবুক পেইজ, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মায়া রাইডের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
প্রি-বুকিং সেবা
অনেক নারী যাত্রী বাইকে অভ্যস্ত নন। ফলে গ্রাহকদের কেউ কেউ কার রাইড শেয়ারিং এর কথা জানান। এমন চাহিদা থেকেই মায়া রাইড-এ চালু হয় কার সার্ভিসও। এটি মূলত সাপ্তাহিক ও মাসিক সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক। একই গাড়িতে একজন অথবা তিন থেকে চারজন নারী যাত্রীও থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট পিক পয়েন্ট থেকে সবাইকে তোলা হয়।
এই সার্ভিসে দুটি প্যাকেজের সুবিধা রয়েছে। একটি ‘পিক আপ পয়েন্ট’ প্যাকেজ, অন্যটি ‘ডোর টু ডোর’। পিক আপ পয়েন্ট প্যাকেজে মাসিক খরচ আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ টাকা। ডোর টু ডোর প্যাকেজে খরচ ৯ হাজার ২০০ টাকা। ঢাকা সিটির ভেতরে যেকোনো জায়গা থেকে যাত্রা করলেও এই একই পরিমাণ টাকা ব্যয় করতে হবে একজন গ্রাহককে।
পিক আপ পয়েন্ট প্যাকেজে কয়েকজন যাত্রী একটি সুবিধাজনক জায়গায় অপেক্ষা করেন। ফলে এক্ষেত্রে একজন চালকের পক্ষে সবাইকে গাড়িতে তুলে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়। অন্যদিকে ডোর টু ডোর সার্ভিসে একেবারে ঘরের মুখ থেকে তোলা এবং নামিয়ে দেওয়ার সুবিধা দেওয়া হয়।
মায়া রাইডের সকল সার্ভিস মূলত প্রি-বুকিং নির্ভর। বিশেষ করে কার ড্রাইভারের সংকট থাকায় কেউ সে সেবা নিতে চাইলে কয়েকদিন আগে বুকিং দিতে হবে।
অন্যদিকে বাইক রাইড সার্ভিসের ক্ষেত্রে আগের দিন রাত ১০টার মধ্যে বুকিং দিলেই রাইডার পৌঁছে যাবেন নির্ধারিত গন্তব্যে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো গ্রাহকের রিকোয়েস্ট রাইডারদের গ্রুপে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে যারা আগ্রহী, তারা সেখানে সাড়া দেন। রাইডার পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়। উভয়পক্ষকে একে অপরের ফোন নম্বরও জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর নির্ধারিত সময়ে রাইডার যাত্রীর কাছে পৌঁছে যান।
বাইক রাইডে কোনো সাপ্তাহিক বা মাসিক প্যাকেজ নেই। যাত্রী রাইড শেষে রাইডারকে নগদ টাকা দেন। তবে ভাড়া কত হবে, সেটি আগে থেকেই জানা যায়।
মায়া রাইডের ওয়েবসাইটে একটি ক্যালকুলেটর অ্যাপলিকেশন রয়েছে। সেখানে যাত্রার লোকেশন দিলে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া দেখা যায়। এমনকি একইভাবে গ্রাহক নিজেও আগে থেকে হিসাব করে নিতে পারেন।
স্কুলগামী শিশুদের জন্যও মায়া
মায়া রাইডের ভাবনা এখন শুধু কর্মজীবী নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্কুলগামী শিশুদের জন্যও চালু হয়েছে ‘মায়া কিডস’ ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম। সন্তান স্কুলে যাচ্ছে। কিন্তু স্কুলে পৌঁছানো পর্যন্ত পথ কতটা নিরাপদ কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের মনে এই প্রশ্নটা প্রায়ই থেকে যায়।
অনেকের পক্ষে নিজে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া বা নিয়ে আসা সবসময় সম্ভব হয় না। আবার অপরিচিত কারও হাতে তাকে তুলে দেওয়ার ভরসাও করতে পারেন না। এই ভাবনা থেকেই মায়া রাইডের নতুন উদ্যোগ ‘মায়া কিডস’।
স্কুলগামী শিশুকে বাসা থেকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং স্কুল শেষে নিরাপদে বাসায় ফিরিয়ে আনার পুরো প্রক্রিয়াটি হয়ে থাকে প্রি-বুকিংয়ের মাধ্যমে। এমনকি যাত্রাকালে শিশুর পরিবারের একজন সদস্য সাথে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর ফলে শিশু কার সঙ্গে যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, সবকিছু নজরে রাখা যায়।
মূলত ব্যস্ততার মধ্যে সন্তানের স্কুলযাত্রা নিয়ে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমানোই মায়া কিডসের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান জান্নাতুল ফেরদৌস। নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি শিশুদের জন্য স্বস্তিদায়ক একটি পথ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল কাজ বলেও জানান তিনি। এখন পর্যন্ত মায়া কিডসের প্রায় সাতজন গ্রাহক রয়েছেন।
ফাহাদ এবং জান্নাতের এই যাত্রায় কখনো পড়তে হয়েছে রাইডারের সংকটে, কখনো বা মাঝপথেই কাজ ছেড়েছেন কেউ কেউ। ফলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন যে সহজ ছিলো না তা স্পষ্ট। আবার অনেক চালক সাহস করে কাজ করলেও কটূকথা শুনেছেন, হাসাহাসি করেছেন কেউ কেউ।
এসব কারণে শুরুতে আগ্রহ দেখাননি অনেক নারী। তবে জান্নাতও দমে যাওয়ার পাত্রী নন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। এতে করে সাহসের সাথে সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে, মানুষের তুচ্ছতাচ্ছিল্যকে পাশ কাটিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন অনেকেই। ফাহাদ ও জান্নাত চেয়েছিলেনও তা-ই। নারীদের এই কাজে অভ্যস্ত করতে চেয়েছিলেন তারা। তাই রাইডারদের কাছ থেকে কমিশন রাখা হয় চালকদের আয়ের ১০ শতাংশ।
মায়া রাইড চলছে মূলত ওয়েবসাইটনির্ভর ব্যবস্থায়। তবে সেটিকে আরও গোছানো ও নিয়মতান্ত্রিক করতে অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছেন ফাহাদ। পরিকল্পনায় রয়েছে এমন একটি অ্যাপ, যেখানে গ্রাহক ও রাইডার দুজনেরই আলাদা রেকর্ড থাকবে। থাকবে রাইডের সকল তথ্য। সবকিছু পরিচালিত হবে আরও সিস্টেমেটিকভাবে।
“আগামী তিন মাসের মধ্যে অ্যাপটি চালু করার ইচ্ছা আছে। এটি হয়ে গেলে আরও সুন্দর করে কাজটা করতে পারবো আমরা। গ্রাহকদের জন্যও সুবিধা হবে,” বলেন ফাহাদ।
জান্নাতের ভাষ্যে মায়া রাইড শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভাবছে তা নয়। সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও। দেশে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। বিশেষ করে রাইডিংয়ের মতো পেশায় নারীর সংখ্যা খুব নগন্য বলা চলে। সেই জায়গায় একটি গাড়ি বা বাইক থাকা নারী চাইলেই নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারছেন।
যাদের নিজেদের কার বা বাইক আছে তাদের আর্থিক অবস্থা যে ভালো সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবু তারা সময় বের করে কাজ করছেন। এর কারণ অন্য নারীদের সাহায্য করার একটা মানসিকতাও অনেক নারীদের মধ্যে কাজ করছে বলে মত তার।
“নারীরা কাজ করছেন অন্য নারীদের হেল্প করার উদ্দেশ্যে। ব্যাপারটা কত সুন্দর না?,” বলেন ফাহাদ।
সূত্র The Business Standard বাংলা