| বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় মো. মোর্শেদ আলম (৩১) এবং মো. সাইদুর রহমান (৫১) নামে দুই জেটি সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনার চুরির ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ মামলা দিয়েছে। মামলায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে আসামিদের রিমান্ডে এনে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দরের পরিবহণ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আমদানি-রপ্তানির সব হিসাবেই ঘাটতির চাপ
আমদানিকারকের অজ্ঞাতসারে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানিকৃত কাপড়ভর্তি কনটেইনার খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। কনটেইনারটি ১১ আগস্ট বন্দর থেকে বের করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মোর্শেদ চট্টগ্রামের পটিয়া থানার জিরি ইউনিয়নের উত্তর কৈয়গ্রাম গ্রামের আলতাফ আলী মৌলভী বাড়ির মো. রফিকের ছেলে এবং সাইদুর পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব বানিয়ারি গ্রামের মো. সুলতান আহম্মেদের ছেলে।
দুজনই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার হিসেবে নিয়োজিত।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েবের ঘটনা ঘটে। ৩০ আগস্ট থেকে ৪০ ফুটের একটি এফসিএল কনটেইনার পাওয়া যাচ্ছে না। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারের হদিস দিতে পারেনি। এ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরজুড়ে চলছে তোলপাড়। এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এদিকে কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘটনাটি আগস্ট মাসের হলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ঘটনাটি আর চাপা থাকেনি। গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে কনটেইনার খালাস করে ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ নামে একটি জাহাজ। ওই জাহাজে ৪০ ফুট এফসিএল কনটেইনারে (কনটেইনার নং- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) আসে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স।
আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়। ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্তও এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিঅ্যান্ডএফ কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিদিন টার্মিনাল ম্যানেজারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড় ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পাওয়ায় আমাদের গ্রাহক গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও বিপাকে পড়েছে। সূত্র যুগান্তর