| সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে এলে তার ভাবি রাবেয়া বেগমকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইমনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের বরাত দিয়ে উপপরিদর্শক বাঁধন ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬২) এবং তার ৮ মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযুক্ত ইমন মৃত ফরিদ মিয়া ও পেয়ারা বেগমের ছোট ছেলে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বড়শালঘর মৃত ফরিদ মিয়ার তিন ছেলে। ছোট ছেলে ইমনের পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে তার অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর থেকে তার মধ্যে বিভিন্ন ডিসঅর্ডার দেখা দেয়। রোববার দিবাগত রাতে ইমন ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া তাকে বাধা দেন। তাদের বাধার মুখে আত্মহত্যা থেকে পিছপা হন ইমন।
সোমবার সকালে ওই বিষয় নিয়ে ইমন তার মা ও ভাবিকে গালাগাল করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা দা দিয়ে মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে জখম করেন। মায়ের কাছে থাকা ৮ মাস বয়সী ইসরাতকেও কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় বাধা দিতে এলে ভাবি রাবেয়াকেও কুপিয়ে আহত করেন ইমন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ৩ জনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। রাবেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপপরিদর্শক বাঁধন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ঘাতক ইমন ডিসঅর্ডারে ভুগছিল। ঘটনার কথা সে স্বীকার করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।