| সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে মধ্যরাতে রেললাইন অবরোধ, রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীদের হামলা-ভাঙচুর এবং স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ ঘটনায় চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেল।
জানা যায়, রোববার রাত ১১টার কিছু পর রাজশাহী রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেসসহ ঢাকাগামী ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা। এ সময় রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী স্টেশন ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ লাঠিসোটা নিয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আতঙ্কে অনেক যাত্রীকে হুড়োহুড়ি করে স্টেশন ছাড়তে দেখা যায়।
একজন যাত্রী বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর কারণে পুরো ট্রেনের যাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন। কিন্তু এই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় রাত ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুই ছাত্রের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় রেল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেশনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আয়ুব আলীকে মারধর করে আহত করেন।
রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, প্রতিবারই দেখা যায়, এই রেললাইনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও টিটিইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করেন।
অভিযোগের পর শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় স্টেশনে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পক্ষের চেষ্টা সত্ত্বেও উত্তেজনা কমেনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সরকারের সম্পদ এই রেলস্টেশন। এটি ভাঙচুর করে তছনছ করা হয়েছে। এমন কাজ কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের দাবি হতে পারে না।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা স্টেশন ছেড়ে ক্যাম্পাসের দিকে ফিরতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্টেশনে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে পশ্চিম রেলের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
রাবি প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সব শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এছাড়া রেলের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে আটক ছিলেন, পুলিশি সহায়তায় তাদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে, আসলে কেন এই ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলকর্মীদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রোববারের ঘটনার পর চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।