| সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সউদী আরবের তেল সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার আশায় সোমবার তেলের দামে পতন দেখা যায়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাসের অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়ায়।International Relations
রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে ১০ সেপ্টেম্বরের পর তেলের দাম এত নিচে নামেনি। বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ কারণে তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঝুঁকির মূল্যও কিছুটা কমেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। ইয়েমেনের হুথিরা শনিবার সউদী রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে সউদী আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার দাবিও করেছে তারা।
সউদী নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহর এবং ইয়ানবুকে বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার চেষ্টাও ঠেকানোর দাবি করেছে জোটটি। তবে সব হামলার বিষয়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হুথিদের হামলায় সউদীর পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পর আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। ফলে সেপ্টেম্বরে সউদীর তেল রপ্তানি দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে, যা আগস্টের দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো ব্যাপকভাবে কমে আছে। গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে এর আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করত।
বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কিছু ইঙ্গিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তেলের দামে চাপ তৈরি করলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়লে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি আবারও বেড়ে যেতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা