|

Advertise with us

দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যার সময় আত্মীয়দের নিয়ে ডাইনিংয়ে খাচ্ছিলেন এমপি নজরুল

  |   বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যার সময় আত্মীয়দের নিয়ে ডাইনিংয়ে খাচ্ছিলেন এমপি নজরুল

দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুন (১৯) ‘আত্মহত্যার’ সময় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটেই ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি তখন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ডাইনিংয়ে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও। এমপি নজরুল নামাজ পড়ার পরে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

তাঁর খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছেন কি না, জানতে কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে, পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত থাকা একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে মরিয়ম কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দুই স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। ঘটনার দিন সাতক্ষীরা থেকে আগের একটি মামলায় হাজিরাসহ বিভিন্ন কাজে ঢাকায় আসেন তাঁর কিছু আত্মীয়। প্রথমে দুপুরের দিকে তাঁদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের ডাইনিংয়ে খেতে বসেন এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা। তখন এমপি নজরুল নামাজ পড়ছিলেন। পরে নামাজ শেষে তিনি তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছেন কি না, জানতে তাঁর কক্ষের সামনে যান এমপি নজরুল। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বেশ কয়েকবার দরজায় ধাক্কা দেন। এরপরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশে খবর দেন তিনি। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) ক্রাইম সিন ইউনিট।

লাশ উদ্ধারের পর এমপি নজরুল বলেছিলেন, ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তবে ঘটনার সময় তিনি বাসায় থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় ওই রাতেই অর্থাৎ রোববার তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের আপন মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। ওই রাতেই এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। পরে ঘটনার দিনই তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছে ডিবি। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পরদিন সোমবার আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন মামলাটির তদন্তভার শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের কাছ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার ছিল এমপি নজরুলের রিমান্ডের প্রথম দিন। মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিবির তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে একসঙ্গে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে দেওয়া রিমান্ডসংক্রান্ত আবেদনে উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে অবগত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, মাকছুদা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন মরিয়মের সঙ্গে তাঁদের কোনো ঝগড়া হয়নি। বরং শুরু থেকেই তাঁর সম্মতিতেই গাজী নজরুল ও মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল। মরিয়ম কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মাকছুদা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এমপি নজরুলও জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সময় বাসায় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে পূর্বের একটি মামলার কাজসহ বিভিন্ন কাজ সেরে বেলা দুইটার দিকে বাসায় ফেরেন। এ সময় সাতক্ষীরা থেকে কয়েকজন আত্মীয়স্বজনও ঢাকায় এসে তাঁর বাসায় ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রথম স্ত্রী আত্মীয়দের নিয়ে খাবার খেতে বসেন। তখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

খাওয়া শেষে মরিয়ম খেয়েছেন কি না, তা জানতে তাঁর কক্ষের সামনে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে এমপি নজরুল দাবি করেছেন, মরিয়মের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের যে ভিডিও গত ২০ জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি নিয়ে মরিয়ম মানসিক অশান্তিতে ছিলেন। এখনো মানুষ ওই ভিডিও দেখে এবং বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি তাঁর কাছে তোলে—এমনটা মনে করে মরিয়ম নানা সময় মানসিকভাবে অশান্তিতে থাকতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলকে দেখা যায়। এর আগে ১৩ জুলাই ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন মরিয়মের আপন মামা মো. ওবায়দুর রহমান। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, ভিডিও ধারণের পর ওবায়দুর রহমান তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন।

আজকের পত্রিকার কাছে এস এম মাসুম বিল্লাহ বলেন, তাঁর মেয়েকে এ অবস্থায় আনার পেছনে মরিয়মের মামা ওবায়দুর দায়ী। তাঁর ভাষ্য, ওবায়দুরের অনেক টাকার লোভ ছিল এবং তিনি মরিয়মকে ব্যবহার করেছেন। ব্ল্যাকমেইল করার পর টাকা না দেওয়ায় ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর ২০ জুলাই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ ও ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।

এরপর থেকে গাজী নজরুল তাঁর দুই স্ত্রীকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারের কাছে ওই বাসায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত এখন করছে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে তেজগাঁও বিভাগের এক অতিরিক্ত উপকমিশনার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁরা বেশ কিছু তথ্য আমাদের দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, মরিয়মের আত্মহত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। সূত্র আজকের পত্রিকা

Advertise with us
Advertise with us
ছয় মাসে দুই দফায় বাস...
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতকে বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য...
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তেলের বাড়তি দামে বেড়েছে ট্রাকভাড়া,...
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল...
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact