| বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ছয় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে বাস ভাড়া। সচিবালয়ে গতকাল সড়ক পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া বাড়বে ১৭ পয়সা। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে এক দফায় ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে দুই দফায় ছয় মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। বৃদ্ধির পরিমাণ ২৮ পয়সা বা প্রায় ১২ শতাংশ। দূরপাল্লার বাসে একই সময়ে ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। বৃদ্ধির হার ১৩ শতাংশের বেশি।
লিটারে জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পর গতকাল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানেই চূড়ান্ত করা হয় বাসের নতুন ভাড়া। এর আগে গত সোমবার বিআরটিএ দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা কমিয়ে সব ধরনের সাধারণ বাসে কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকের পরপরই সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবহন মালিকরা বিআরটিএর সঙ্গে বসে এগ্রিমেন্ট করবে। মেট্রোপলিটন কিংবা জেলা সব জায়গাতেই তারা ৩ পয়সা কম নেবে।’
নতুন ভাড়া অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৫৯ পয়সা হবে। দূরপাল্লার ৫২ আসনের বাসে ভাড়া হবে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪০ পয়সা। নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারির পরই তা কার্যকর হবে।
এদিকে নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার আগেই বিভিন্ন পথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে সোমবার থেকেই অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও ১০০ টাকা বা তারও বেশি বাড়তি নেয়া হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল পথে সাকুরা পরিবহনে ১০০ টাকা বাড়তি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিআরটিএর হিসাবে, এ পথে নতুন ভাড়া অনুযায়ী বাড়তি ভাড়া বড়জোর ৩০ টাকার মতো হওয়ার কথা।
বাসভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি থাকলেও এবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বাইরে অন্য কোনো পরিচালন ব্যয় যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রচলিত হিসাবে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১ টাকা বাড়লে বাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১ পয়সা বাড়ে। সে হিসাবে ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় বিআরটিএও ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার তা কমিয়ে ১৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে।
বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘হিসাব অনুযায়ী ১ টাকা বাড়লে ১ পয়সা বাড়ে। পরিবহন মালিকদের ম্যানেজ করে, কনভিন্স করে, পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে ১৭ পয়সা বাড়ানোর একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৭ পয়সা বাড়বে ২০ টাকা বাড়ার ফলে প্রতি কিলোমিটারে। সেটাই নির্ধারিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেকোনো ভাড়াই এক ধরনের চাপ। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভাড়া যা বেড়েছে, তা যৌক্তিকের চেয়েও কম রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি।’
এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ২৩ এপ্রিল বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা হয়। অর্থাৎ ছয় মাসে দুই দফায় মহানগর ও দূরপাল্লা—উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২৮ পয়সা বেড়েছে।
তবে নতুন ভাড়ার পুরো চাপ সব যাত্রীর ক্ষেত্রে একই হবে না। বিআরটিএ জানিয়েছে, নতুন হার শুধু ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের জন্য প্রযোজ্য। এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না। একইভাবে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়াও নির্ধারিত হয় না। দূরপাল্লার বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ আসনের বাস ধরে। অনেক পরিবহন আসন কমিয়ে বেশি জায়গা রাখায় সেসব বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া আরো বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে সড়ক ও সেতুর টোলও যুক্ত হবে। সূত্র বণিক বার্তা