|

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
চেয়ারম্যানের প্রশ্রয়ে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজদের পুরষ্কৃত বদলি

বিআরটিএর বদলি বাণিজ্যের জাঁতাকলে পিষ্ট নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৯৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিআরটিএর বদলি বাণিজ্যের জাঁতাকলে পিষ্ট নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা

“নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যটি সামনে রেখে আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ সারাদেশে পালিত হবে নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রস্তুতির পাশাপাশি গণপরিবহনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)র বদলি বাণিজ্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের প্রত্যাশা। অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য,দালাল নিয়ন্ত্রণ, টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য কোনোটি বন্ধ হচ্ছে না সংস্থাটিতে। সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও “আগে ঘুষ, পরে সেবা” নীতিতে সেবা প্রদান করে দেশের একমাত্র গণপরিবহন বিষয়ক সংস্থাটি। ২০২৬ সালে সর্বশেষ প্রকাশিত টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিআরটিএ’তে সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে দুর্নীতির অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন প্রায় ৭৯.৩% সেবাগ্রহীতারা। এরমধ্যে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ৬৩.৫% সেবা গ্রহণকারী।

বিআরটিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের প্রশ্রয়ে ইতিমধ্যে বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজদের করা হয়েছে পুরষ্কৃত বদলি। ২২ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে বিআরটিএ’র নানা কর্মকান্ডের উপর প্যাসেঞ্জার ভয়েসের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই সব অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য:-

ঘটনা-১: দেলোয়ার হোসেন-২০১৪ সালে মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট পদে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)তে যোগদান করেন। ২০২২ সালের ১৬ই আগস্ট মোটরযান পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। যোগদানের পর থেকে ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ টাকা আয়ের মাধ্যমে বিলাসী জীবনযাপন করতেন তিনি। ঘুষ না দিলে গ্রাহককে নিজস্ব টর্চার সেলে হকিস্টিক দিয়ে বেধম পেটাতেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যায়। এমন ডজনখানেক অভিযোগ থাকলেও টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যেতেন বিআরটিএর শীর্ষ কর্মকর্তারা। চুরির সিএনজির চ্যাসিস পাঞ্চ করে জাল কাগজ তৈরি এবং তথ্য গোপন রাখতে সিএনজি মালিকদের  ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেকও গ্রহণ করতেন তিনি।

২০২৫ সালের ২৯শে এপ্রিল সন্ধ্যায় সিলেট সদরের খাদিমনগর দাসপাড়া গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার পুত্র জনৈক মোঃ রেদুওয়ান আলম রাজুকে রাত বারোটা পর্যন্ত এই টর্চার সেলে বেঁধে হকিস্টিক দিয়ে বেধম পিটিয়েছিলেন মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। এই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ২০২৫ সালের ৭ই মে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বিআরটিএ’র সিলেট জেলা সার্কেলে অভিযান পরিচালনা করে এই কর্মকর্তার অফিস কক্ষ থেকে হকিস্টিক, ব্ল্যাংক চেক উদ্ধার করে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা।

বিআরটিএর প্রশাসন শাখার সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের ৮ই মে নং- ৩৫.০৩.০০০০.০০১.০১৯.১৬.২০১৪-৮৫৪ সংখ্যক স্মারকে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করার আদেশ জারি করেন সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। দীর্ঘ সময় বরখাস্ত থাকা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘন করে গত ১৬ই আগস্ট নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৬৯৪ সংখ্যক স্মারকে বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলে বদলি করেন। এই ঘটনায় বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজদের পুরষ্কৃত বদলির অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

ঘটনা-২: জামাল উদ্দীন- ২০১২ সালের ১১ই অক্টোবর নং- ৩৫.০৩.০০০০.০০১.১১.০১৩.১২-২৮৪৭ সংখ্যক স্মারকে বিআরটিএ’র অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে প্রথম পদায়ন করা হয় বিআরটিএ’র চট্ট মেট্রো-২ সার্কেলে। ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে এই কর্মচারীকে চট্টগ্রামের বাহিরে বদলি করার চেষ্টা করেও সব চেয়ারম্যানরা ধরাশায়ী হয়েছিলেন। তবে চট্ট মেট্রো-২ সার্কেল থেকে একই অফিসে চট্ট মেট্রো-১ সার্কেলে বদলীর একটি গোপনীয় অফিস অর্ডার হয়। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর তড়িঘড়ি করে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শীর্ষ এই ক্যাডারকে ২০২৪ সালের ১২ই আগস্ট নং-৩৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.১৩২.২৩-১৩১৯ সংখ্যক স্মারকে বিআরটিএ’র চট্ট মেট্রা-১ সার্কেল থেকে বান্দরবান সার্কেলে বদলি করেন সাবেক এই মন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পাল। বান্দরবান সার্কেলে যোগদান ও চাকরি করার কোনো প্রমাণ না থাকলেও হাজিরা খাতায় দুই বছরের স্বাক্ষর দেখিয়ে সংস্থাটির বর্তমান কুমিল্লা সার্কেলের উপপরিচালক উথোয়াইনু চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এসিআর তৈরি করে চলতি বছরের ২৭ জুলাই নং-৩৫.০৩.০০০০.০০১.১২.০৩৪.২০-১৫৪০ সংখ্যক স্মারকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতির জন্য কম্পিউটার বিষয়ক দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের সুযোগ করে দেয় সংস্থাটির উপপরিচালক (প্রশাসন) মোঃ সামিউল মাসুদ। পরবর্তীতে কৌশলে গত ৩০শে জুলাই নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৫৭৭ সংখ্যক অফিস আদেশে তাকে বান্দরবন থেকে সদর কার্যালয়ে বদলি করা হয়।

অথচ চলতি বছরের ৭ই মার্চ নং-৩৫.০৩.০০০০.০০১.০১৯.০৫২.২০১৪-৪৯৭ সংখ্যক স্মারকমূলে বিআরটিএর বায়োমেট্রিক হাজিরা পরীক্ষাতে বিলম্বে অফিসে উপস্থিত হওয়ার কারণে সংস্থাটির রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মোঃ ফয়সাল হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিলো সাবেক চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। কিন্তু জামাল উদ্দীনের ঘটনায় পুরষ্কৃত বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনা-৩: দেলোয়ার হোসেন: মহামান্য হাইকোর্টের পিটিশন নম্বর ৪৭৯/২০২৫ এর ২০২৫ সালের ৪মে ১নং আদেশমূলে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ঢাকা এর ভারপ্রাপ্ত মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার এক আদেশে এনা পরিবহনের ১৯০টি যানবাহনের উপর ক্রোকাদেশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ক্রোক আদেশকৃত ১৫টি বাসের রুট পারমিট বায়োলেশন করে সুনামগঞ্জ সার্কেল থেকে ফিটনেস ইস্যু করার অপরাধে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.২৭.০১১৯.২৫-২০৭৯ সংখ্যক স্মারকে সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিলেন বিআরটিএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দীন আহমেদ। বরখাস্ত আদেশ নিষ্পত্তি হওয়ার পরপর বিশেষ উদ্দেশ্যে গত ৪ আগস্ট নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৬২২ সংখ্যক স্মারকে দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেলে বদলি করা হয়।

ঘটনা-৪: ২০২৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তারিখে আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করে ফিটনেস নবায়নের সময় আগত মোটরযানের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে চালুকৃত ব্যবস্থা অনুসরণ না করে অনিয়মের মাধ্যমে ফিটনেস সনদ প্রদান করায় ২০২৫ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর বিআরটিএর মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট মোঃ শহীদুলকে নং-৩৫.০৩.০০০০.০১.০১৯.০৪১.১৭-২০৪৪ সংখ্যক স্মারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিলেন বিআরটিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দীন আহমেদ। বরখাস্ত আদেশ নিষ্পত্তি হওয়ার পরপর বিশেষ উদ্দেশ্যে গত ৪ আগস্ট নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৬২২ সংখ্যক স্মারকে মোঃ শহীদুলকে ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেলে বদলি করা হয়।

ঘটনা-৫: দীর্ঘ তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০১০৮.২৫-২৩৪৫ সংখ্যক স্মারকে ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল থেকে বিআরটিএ যশোর সার্কেলে বদলি করা হয় মোটরযান পরিদর্শক নজরুল ইসলামকে। ৯ মাসের মধ্যে গত ৩০ জুলাই নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৫৭৬ সংখ্যক স্মারকে যশোর সার্কেল থেকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের কন্ডেমনেশন শাখায় বদলি করা হয়। পরবর্তীতে ৪ দিনের ব্যবধানে গত ৪ই আগস্ট নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৬২১ সংখ্যক স্মারকমূলে পুনরায় ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলে বদলি করা হয়।

ঘটনা-৬: অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় ২০২৫ সালের ২৫ শে নভেম্বর নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০১০৮.২৫-২৫৪৪ সংখ্যক স্মারকে ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলে মোটরযান পরিদর্শক অসীম পালকে সংস্থাটির শরীয়তপুর সার্কেলে বদলি করা হয়। ৯ মাসের মাঝেই এই কর্মকর্তাকেও গত ৫ অক্টোবর নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-২০৭২ সংখ্যক স্মারকে বিশেষ উদ্দেশ্যে শরীয়তপুর সার্কেল হতে পুনরায় ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলে বদলি করা হয়।

ঘটনা-৭: ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০১০৮.২৫-২৩৪৫ সংখ্যক স্মারকে রাজশাহী জেলা সার্কেলে মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় বদলি করে কর্তৃপক্ষ। ২৩ দিন পরে ২৫ নভেম্বর নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০১০৮.২৫-২৫৪৪ সংখ্যক স্মারকে আবুর কালাম আজাদকে বিআরটিএ সদর কার্যালয়ের মেরামত ও কন্ডেমনেশন শাখায় বদলি করেন। ৯ মাসের মাঝেই এই কর্মকর্তাকেও ৩০ জুলাই নং-৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-১৫৭৬ সংখ্যক স্মারকে কন্ডেমনেশন শাখা থেকে বিআরটিএ’র যশোর সার্কেলে বদলি করা হয়।

ঘটনা-৮: ২০২৫ সালের ১৯ মে তারিখে নং-৩৫.০৩.০০০০.০০১.১২.০০৮.২২-৯৩৪ সংখ্যক স্মারকের বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াসীনের স্বাক্ষরিত পত্র অনুযায়ী জানা যায় ২০২৫ সালের ২৭শে এপ্রিল তারিখের ৮০.০০.০০০০.১১৩.১২.০০৪.২৫-৩৬ সংখ্যক স্মারকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের সুপারিশক্রমে মেকানিক্যাল এসিসেট্যান্ট পদ থেকে মোটরযান পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পায় সফীকুল ইসলাম রাসেল। একই আদেশে বিআরটিএ’র সিলেট বিভাগীয় অফিসে পদায়ন করা হয় তাকে। পরবর্তীতে বিশেষ প্রয়োজনে তাকে সিলেট সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২২শে অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবসকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়িতে বিশেষ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গত ১২ই অক্টোবর নং ৩৫.০৩.০০০০.০০০.০০১.১৯.০০৪০.২৬-২১১১ সংখ্যক স্মারকে সফীকুল ইসলাম রাসেলকে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে সিলেট সার্কেলে বদলি করা হয়।

ঘটনা-৯: দীর্ঘ সময় গাজীপুর সার্কেলে দায়িত্ব পালন করে লাইসেন্স কেলেঙ্কারিতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট সরোয়ার আলমকে সাম্প্রতিক সময়ে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলে পদায়ন করা হয়।

উক্ত বদলি ও পদায়নগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কোনো বদলিতেই নীতিমালা মানছে না বিআরটিএ’র এই চেয়ারম্যান। এদিকে গত ৭ই অক্টোবর শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে খাগড়াছড়ি সার্কেলের সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিঃ) মোঃ মুছা বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে উল্লেখিত তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ১৩ই এপ্রিল নং-৩৫.০৩.০০০০.০০১.১৯.১৩২.২৩-৬৭৭ সংখ্যক স্মারকে এই কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়ি সার্কেলে পদায়নের সময় নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে রাঙামাটি সার্কেলের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পিত্তথলীর পাথর ও ইনফেকশন শনাক্ত হওয়ায় সাম্প্রতিক অপারেশন হয় তার। অপারেশন পরবর্তী সময়ে শারীরিক অসুবিধার কারণে রাঙামাটি সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বটি বাতিল করার আবেদন করলেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃৃপক্ষ।

দুর্নীতিবাজদের বাহুবলে নিরাপদ সড়কের প্রত্যাশা ধোঁয়াশায় থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে সড়কে লাশের মিছিল, আহতদের আর্তনাদ। অন্যদিকে ট্রাস্টি বোর্ডের ক্ষতিপূরণ চেক বিতরণ নিয়ে নিজেদের প্রচারণায় ব্যস্ত সংস্থাটি। এদিকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বিআরটিএ’র বিভিন্ন সার্কেলে পদায়ন করা কর্মকর্তারা ঘুষের টাকার শূণ্য স্থান পূরণে লক্কর-ঝক্কর গাড়ির ফিটনেস প্রদান, মাদকাশক্ত চালকদের হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্লিপারবাস নিবন্ধনেও পিছুপা হচ্ছে না তারা।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দুর্নীতি সকলের জন্যই ক্ষতিকর, তবে একইসঙ্গে বৈষম্যমূলক। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন তারা দুর্নীতির ফলে লাভবান হলেও, এর নেতিবাচক প্রভাব পরে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।

টিআইবি ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রতিবেদনে বিআরটিএ ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ ঘুষ আদায় হয় বলে উল্লেখ করেছেন।

Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact