ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ইতিবাচক দিক থাকলেও এগুলো লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই ধরনের ব্যাটারিচালিত যে অটোগুলো রয়েছে, এগুলোর কতগুলো পজিটিভ দিক আছে, আমরা সেটা রেকগনাইজ করি। এসব যানবাহন পেট্রোল বা ডিজেলের মতো তরল জ্বালানি ব্যবহার না করায় এর একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এটা পরিবেশবান্ধব, এটা অনেক মানুষের এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করছে। এই ব্যাপারগুলো মানুষের সুবিধাও হচ্ছে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ইতিবাচক দিক থাকলেও এগুলো লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলতে দেওয়া হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, একেবারে লাগামহীন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আসলে চলতে পারে না। বিশেষ করে পাঁচ আগস্টের পরেই ঘটনাটা এভাবে ঘটেছে। মেইন রাস্তা ব্লক হয়ে যাচ্ছে, অনেকে প্রশিক্ষিত নন। ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহনের গতি অনুযায়ী নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাহেদ-উর রহমান বলেন, সবচেয়ে জরুরি কথাটা হচ্ছে, যখন পা দিয়ে কেউ রিকশা চালায় সেটার একটা গতি থাকে, কিন্তু এই ভেহিকেলগুলোর যে গতি সে অনুযায়ী এর সেফটি স্ট্যান্ডার্ড, মেকানিক্যাল লেভেলও ভালো না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। নীতিমালায় লাইসেন্সিং, চলাচলের এলাকা, গতি, যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হব।
তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল অবস্থায় এলে দেশে তেলের দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান ডা. জাহেদ উর রহমান।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে এক সাংবাদিক জানতে চান, তেলের দাম যখন ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের কাছাকাছি ছিল, তখন দেশে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে তা কমে এসেছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে তেলের দাম কত দ্রুত সমন্বয় করা হবে?
উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সরকার যে দরে সমন্বয় করেছিল, তার তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে দাম কমার পেছনের কারণটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, যেদিন আমরা তেলের মূল্য বাড়ালাম, তখন নিউজ কি হয়েছিল? তেলের মূল্য কমছে। ওইদিনই তেলের মূল্য একটু কমেছিল। মজার ব্যাপার, তার তিন-চার দিন পর আবার তেলের মূল্য বেড়েছে। আবার ১০৬-১০৭ এ চলে গেছে।
তেলের বর্তমান দর কমার কারণ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোর কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বড় পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা একটা ডেটা পেলাম, কিন্তু ডেটার কারণটা যদি খুঁজি আপনারা খুঁজলেই দেখবেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে একটা বড় রিজার্ভ বাজারে ছেড়েছেন।
তেলের দাম বর্তমান পর্যায়ে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সেখানে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদর দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল দাম হিসেবে ধরে নেওয়া কঠিন। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম মূল্যে স্থিতিশীল হলে সরকার দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, তেলের মূল্য মোটামুটি একটা স্টেবল অবস্থায় এবং যদি কম মূল্যে স্টেবল হয়, তখন অবশ্যই, অবশ্যই সরকার বিবেচনা করবে।