|

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ,পর্যটনের মহাপরিকল্পনায় নতুন সাজে কক্সবাজার

  |   রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৪৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ,পর্যটনের মহাপরিকল্পনায় নতুন সাজে কক্সবাজার

একদিকে সবুজ পাহাড়, অন্যদিকে দিগন্তজোড়া নীল সমুদ্র—প্রকৃতির এমন অনন্য মেলবন্ধনই কক্সবাজারকে করেছে বাংলাদেশের পর্যটনের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত, পাহাড়, ঝরনা, পাথুরে তটরেখা আর মেরিন ড্রাইভ ঘিরে দিন দিন বাড়ছে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা। রেল, সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি গড়ে উঠছে নতুন নতুন পর্যটন অবকাঠামো। তবে সম্ভাবনার বিস্তৃতি যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত পর্যটন বিকাশের চ্যালেঞ্জ। প্রকৃতির ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে এখন চলছে নানা উদ্যোগ ও মহাপরিকল্পনা।

দেশের পর্যটনশিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আজ ২৭ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’।

যোগাযোগে বড় পরিবর্তন
পর্যটন অর্থনীতির ক্রমাগত বিস্তারে কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে ২০২৩ সালে। ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে রেল যোগাযোগে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার। আগামী মাসেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। সাগরপথেও শুষ্ক মৌসুমে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে এখানে।

কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত থাকা ৮৪ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের ৩২ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে শহরের ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পর্যটনের সম্ভাবনা এগিয়ে নিতেই সাম্প্রতিক সময়ে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মেরিন ড্রাইভজুড়ে পর্যটন সম্ভাবনা
কক্সবাজার শহর থেকে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক পর্যন্ত ৮৪ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক। এই সড়ক ধরে যেতে যেতে নীল জলরাশির ঢেউ আছড়ে পড়ার দৃশ্য যেমন পর্যটকদের নজর কাড়ে, তেমনি সবুজ পাহাড়েও চোখ আটকে যায়। এ পথে দরিয়ানগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, হিমছড়ির পাহাড়-ঝরনা, রেজুখালের মোহনা, ইনানী ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত এবং টেকনাফের দীর্ঘ সৈকত—আলাদা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এখানে আছে হিমছড়ি ও ইনানী জাতীয় উদ্যান। কিন্তু এসব এলাকায় পর্যটকবান্ধব গণপরিবহন, পর্যাপ্ত পার্কিং, পাবলিক টয়লেট, খাবারের নিরাপদ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তথ্যকেন্দ্র, পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও উদ্ধার ব্যবস্থা এখনো শহরের মতো বিস্তৃত নয়।

ফলে পর্যটকের বড় অংশ কয়েকটি পরিচিত স্পটেই সীমাবদ্ধ থাকে। এতে একদিকে শহরের সৈকতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সৈকতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক সুযোগও সীমিত থাকছে।

গত শুক্রবার বিকেলে মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তে নির্মিতব্য টেকনাফের ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে সরকার এখানে বিশ্বমানের পর্যটন হাব করার উদ্যোগ নিয়েছে। এখান থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াতে পর্যটকদের জন্য একটি আধুনিক জেটিও নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ সম্প্রসারণ করে কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

শেষ পর্যায়ে মহাপরিকল্পনা
কক্সবাজার শহর এবং আশপাশের এলাকাকে পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। ‘কক্সবাজার জেলার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় জেলার নয়টি উপজেলা, সমুদ্রসৈকত এলাকাসহ ৬৯০ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) এবং পুরো জেলার ২ হাজার ৪৯১ দশমিক ৮৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার জন্য কাঠামো পরিকল্পনা তৈরির কথা রয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৪ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

গত ২৩ জুলাই সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্বে কক্সবাজারের পর্যটন খাত ও জেলার সমন্বিত উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সভা শেষে অর্থমন্ত্রী কক্সবাজারে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় পর্যটন, যোগাযোগ, নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান।

কউকের মহাপরিকল্পনায় ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকাকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরীতে রূপ দেওয়া মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শেষ করা হবে।’

ঘাটতি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায়
প্রতিবছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ঘুরতে আসে। দু-তিন বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে ভিড় করছে পর্যটকেরা। কক্সবাজার শহর, মেরিন ড্রাইভ এবং আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টে ১ লাখ ৭০ হাজারের মতো পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। আরও নতুন নতুন হোটেল ও অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ১২০ কিলোমিটার সৈকতে পর্যটন ছড়িয়ে দিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে বলে জানান পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শহরের তিন কিলোমিটার এলাকায় পর্যটকদের জন্য লাইফগার্ড, সৈকত কর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকলেও দূরের সৈকতগুলোতে একই মাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ফলে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকা পর্যটকদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে।

কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বড় বড় প্রকল্প ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি জানিয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ বলেন, ‘পর্যটনের উন্নয়নে যে পরিকল্পনাই নেওয়া হোক, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। না হয় এসব প্রকল্প স্বপ্নই থেকে যাবে।’ পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা সেল গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের নানা উদ্যোগ রয়েছে জানিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান বলেন, এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। সূত্র আজকের পত্রিকা

 

Advertise with us
Advertise with us
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact