| মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে পলি-বালু জমে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অনেক ডুবোচর।
প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা না থাকায় দৌলতদিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৭ নম্বর ফেরিঘাটটি ১২ দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। তিনটি ফেরিঘাটের একটি বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘাটসংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই নৌপথে স্বাভাবিক ফেরিপারাপার ব্যাহত হচ্ছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাব্যতা সংকট মোকাবেলায় চ্যানেল খননের জন্য ড্রেজার মেশিন প্রস্তুত রাখা হলেও স্রোতের কারণে তা স্থাপন করা যাচ্ছে না।
বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন সেখানে কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়ি ফেরিপারাপার হয়। ওই নৌরুটে ফেরি চলাচলের জন্য এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নির্দিষ্ট চ্যানেল রয়েছে। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা স্রোতে পলি-বালু জমে চ্যানেলটির দীর্ঘ অংশ অনেকটা ভরাট ও সরু হয়ে গেছে।
পাশাপাশি নৌচ্যানেলের উজান-ভাটি উভয় পাশে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অনেক ডুবোচর। প্রতিটি রো রো (বড়) ফেরি চলাচলের জন্য কমপক্ষে ৮ ফুট পানির গভীরতা থাকা দরকার। কিন্তু নদীতে পানি কমে ওই নৌপথের বিভিন্ন পয়েন্টে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে ‘বেসিন চ্যানেলে’ প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা না থাকায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের গুরুত্বপূর্ণ ৭ নম্বর ঘাটটি গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে আছে।
এদিকে, পাটুরিয়া প্রান্তে নৌপথ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও দৌলতদিয়া প্রান্তে পদ্মায় এখনো প্রবল স্রোত বইছে।
স্রোতের মুখে চলতে গিয়ে অনেক ফেরি নির্দিষ্ট চ্যানেল ছেড়ে ভাটিপথে গিয়ে প্রায়ই ডুবোচরে আটকা পড়ছে। আবার স্রোত ও ডুবোচরের কারণে চলাচলকারি ফেরিগুলো নির্দিষ্ট চ্যানেল ছেড়ে দেড়-দুই কিলোমিটার উজানপথ ঘুরো যাতায়াত করছে। এতে ফেরি পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় বেশি লাগছে।
দৌলতদিয়ায় তিনটি ফেরিঘাটের মধ্যে ৭ নম্বর ঘাটটি বন্ধ থাকায় সেখানে ঘাটসংকট সৃষ্টি হয়ে আছে। সচল থাকা দুটি ঘাটের মধ্যে ৩ নম্বর ঘাটে স্থাপিত পন্টুনটি তিন পকেটবিশিষ্ট। অপর ৪ নম্বর ঘাটপন্টুনে মাত্র দুটি পকেট রয়েছে। পন্টুনের ‘আপ’ ও ‘ডাউন’ পকেটে রো রো (বড়) ফেরিগুলো ভিড়ে। ‘কনভেনশন’ পকেটে ভেরে ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি। কিন্তু ৪ নম্বর ঘাটপন্টুনে ‘আপ’ পকেট না থাকায় ওই ঘাটে একটি মাত্র রো রো (বড়) ফেরি ভিড়তে পারছে। এতে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা বড় ফেরিগুলো দৌলতদিয়ায় পৌঁছে পকেটের অভাবে সহসা ঘাটপন্টুনে ভিড়তে পারছে না। আগে ভিড়ে থাকা ফেরি পূর্ণ লোড নিয়ে ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত ঘাটে ভেরার অপেক্ষায় থাকছে অনেক ফেরি। তবে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তিন পকেটবিশিষ্ট নতুন দুটি পন্টুন দীর্ঘদিন যাবত বেঁধে রাখা হয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ৪ নম্বর ঘাটের দুই পকেটের পন্টুনটি সরিয়ে সেখানে তিন পকেটের নতুন ওই পন্টুন স্থাপন করা হচ্ছে না।
বিআইডাব্লিউটিসির সহকারি মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘নাব্যতা সংকটের কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর ঘাটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। নাব্যতা সংকট মোকাবেলায় একটি ড্রেজার মেশিন প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু স্রোতের কারণে ড্রেজার স্থাপন করা যাচ্ছে না। বর্তমান দৌলতদিয়া প্রান্তে পদ্মায় স্রোত বইছে ৭ নটিক্যাল। স্রোতের গতিবেগ ৪ নটিক্যালে নেমে আসার পর ড্রেজার স্থাপন করে চ্যানেলে খনন কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের বহরে ছোট-বড় মোট ১৭টি ফেরি রয়েছে।’ সূত্র কালের কণ্ঠ