| বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
গণমাধ্যম রাষ্ট্রের এমন একটি স্তম্ভ, যা সরকারকে সঠিক পথে রাখে, বিরোধী দলকে দায়িত্ব মনে করিয়ে দেয় এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম সেই স্তম্ভ, যে স্তম্ভ ঠিক করে দেয় গণতন্ত্র থাকবে, নাকি গণতন্ত্র আবার অন্ধকারে চলে যাবে। গণমাধ্যম সেই স্তম্ভ, যে স্তম্ভ ঠিক করে দেয় বাংলাদেশ ১৭ বছরের পেছনে যাবে, নাকি বাংলাদেশ ৫০ বছর সামনের পরিকল্পনায় সাহস, হিম্মত ও বলিষ্ঠতা নিয়ে এগিয়ে যাবে।’
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গত দিনের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকরা সাহস ও বলিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ‘দুই-চারজন ব্যতিক্রম বাদ দিলে সবাই এই রিপোর্টার্স ইউনিটি অত্যন্ত সাহসী মত, বলিষ্ঠতা নিয়ে কাজ করেছে বলেই আমাদের এই যে হাজার ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন, তার মধ্যে আমাদের সাংবাদিকরাও কিন্তু শাহাদাত বরণ করেছেন।’
আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহত সাংবাদিকদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বিশেষভাবে আজকে স্মরণ করছি। এমন অনেকে আছেন, যারা এখন আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।’
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সাংবাদিকরা শুধু কলমের সৈনিক ছিলেন না, তারা রাজপথেরও সৈনিক ছিলেন। তাদের সঙ্গে রাজপথের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘এই সাংবাদিক ভাইয়েরা শুধু তাদের কলমের সৈনিক হননি। তারা রাজপথের সৈনিকও হয়েছিলেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রাজপথের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছি।’
আগামী দিনে বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী, সরকার কিংবা বিরোধী দলের নয়। তারা বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পক্ষে ভূমিকা রাখবে- এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য আগামী দিনে বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি যেভাবে বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে, তারা কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো দলের নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো সরকার কিংবা বিরোধী দলের নয়। তারা বাংলাদেশের ছিলেন, বাংলাদেশের আছেন, বাংলাদেশের যতদিন ভূমিকা পালন করবেন- জামায়াতে ইসলামী ততদিন আপনাদের পাশে থেকে, আপনারা কলম সৈনিক, আমরা রাজপথের সৈনিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে ভূমিকা পালন করব।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সংগঠনটির নেতা ও সাংবাদিকরা।