ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এ তথ্য শেয়ারধারীদের জানিয়েছে ব্যাংকটি।
এ বিষয়ে ব্যাংকটির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, এস আলম গোষ্ঠীর অনিয়মের কারণে ব্যাংকটি মূলধন সংকটে পড়েছে।
এ জন্য অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে বিদেশি কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মূলধন বাড়ানোর পরামর্শটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসেছে।আশা করছি আমাদের সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন করবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেওয়া ইসলামী ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যাংকের সংঘস্মারকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারধারীদের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী নিট লোকসান করেছে ৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে (প্রথম ৯ মাসে) ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল প্রায় ৭৯ কোটি টাকা। আবার চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা।
ব্যাংকটির তথ্যানুযায়ী, বড় লোকসানের কারণে সম্পদের মূল্য কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা; আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। ফলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও (এনএভিপিএ) কমে গেছে।
আর্থিক সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংক ২০২৩ সালের পর শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ফলে শেয়ারবাজারে এখন ব্যাংকটি দুর্বল মানের কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা হস্তান্তরের পর এস আলম শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেয়, যার সবই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায় এস আলম গ্রুপ। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ব্যাংকটি পরিচালনার দায়িত্ব পান স্বতন্ত্র পরিচালকেরা এবং বর্তমানে এর তদারকির দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি তাদের অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা থেকে আট হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।