| সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর ওপর ১ হাজার ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নির্মাণ চুক্তির প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড বলছে, নকশা ও অ্যালাইনমেন্টে পরিবর্তন এবং নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ভ্যারিয়েশনের দাবি করেছে। ওই দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ভ্যারিয়েশন নিয়ে আলোচনা চললেও কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, ঠিকাদারের আর্থিক সংকটই কাজ থেমে যাওয়ার মূল কারণ।
কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কের ১৭তম কিলোমিটারে পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় ১ হাজার ৬৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতু নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান করপোরেশন ও বাংলাদেশের মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগের সঙ্গে ৬৪১ কোটি টাকার মূল চুক্তি করা হয়। পরে প্রকল্পের অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১ হাজার ৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সেতুটি নির্মিত হলে মির্জাগঞ্জের সঙ্গে পটুয়াখালী সদর ও ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ার কথা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, সেতু চালু হলে মির্জাগঞ্জ থেকে পটুয়াখালী সদরে যাতায়াতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কমতে পারে।
কিন্তু চার বছরেও কাজের অগ্রগতি এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি। গত ১০ জুলাই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভায় কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভ্যারিয়েশন অনুমোদন না হওয়া এবং আর্থিক সংকটের কথা জানায়।
প্রকল্প পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকট চলছে। আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত কার্যালয় স্থাপনসহ প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ, জমি অধিগ্রহণ ও সেতুর ভায়াডাক্টের কয়েকটি পিলারের কাজ হয়েছে।’
তবে ভ্যারিয়েশন অনুমোদন না হওয়াকে কাজ বন্ধ রাখার যুক্তি হিসেবে মানছে না প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ভ্যারিয়েশন নিয়ে ঠিকাদারের দাবি থাকতেই পারে। তা নিষ্পত্তির জন্য চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কাজ বন্ধ রেখে দাবি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকার সুযোগ নেই। নকশা অনুমোদিত আছে। তাই চুক্তি অনুযায়ী কাজ চালু রেখেই দাবি-দাওয়া নিষ্পত্তি করতে হবে।’ কাজ বন্ধ রাখায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনে চুক্তি বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।
অন্যদিকে মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন জানিয়েছেন, দরপত্রে অংশ নেয়ার পর সেতুটির নকশা ও অ্যালাইনমেন্টে বড় পরিবর্তন এসেছে। একই সময়ে নির্মাণসামগ্রীর দাম ও অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণে চুক্তি অনুযায়ী তারা ভ্যারিয়েশনের দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ডিসপিউট অ্যাডজুডিকেশন বোর্ড (ড্যাব) গঠনের বিধান চুক্তিতে রয়েছে। আমরা আমাদের পক্ষের প্রতিনিধির নাম দিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম না দেয়ায় ড্যাব গঠিত হচ্ছে না। অনুমোদন ছাড়া কোটি কোটি টাকার বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এ আর্থিক দায় কর্তৃপক্ষ নেবে কিনা সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কোনো অন্যায্য সুবিধা চাইছি না। চুক্তি অনুযায়ী ড্যাব গঠন করে দাবি যাচাই করা হোক। দাবি যৌক্তিক হলে আমরা পাব, না হলে পাব না।’
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগের কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান সামহোয়ান করপোরেশনের মাঠপর্যায়ে তেমন কার্যকর ভূমিকা নেই। প্রকল্পে তাদের দু-একজন প্রতিনিধি রয়েছেন, যারা মূলত নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। মাঠপর্যায়ের কাজ মীর আখতারই করছে।
এদিকে মীর আখতারের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি বড় উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মহাসড়ক, সেতু, বিমানবন্দর, রেললাইন, নদী খননসহ যোগাযোগ অবকাঠামোর ১২টি প্রকল্প রয়েছে। এমন অবস্থায় হাজার কোটি টাকার পায়রা সেতুর কাজ থেমে যাওয়ায় প্রকল্পটির নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। সূত্র বণিক বার্তা