ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, প্রাণহানি কমানো এবং সড়কে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবন রক্ষায় সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। আহত হয়ে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও আর্থিক সংকটের মুখেও পড়ছেন। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, চালকের অদক্ষতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং সড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রণীত প্রস্তাবিত আইনে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনাকবলিত মানুষকে সহায়তাকারীদের আইনি সুরক্ষা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ডিমেরিট পয়েন্ট চালুর বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে দ্বিগুণ জরিমানার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামোর মান উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
গত ১৪ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার করে।
ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন দেশবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, দায়িত্বশীলভাবে যানবাহন চালানো এবং নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডন থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৪৯০ জন।
পরিসংখ্যানের এ পার্থক্য সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিরূপণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব।