ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সড়কে প্রতিদিনই ঝরছে প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করছেন হাজারো মানুষ। সড়ক নিরাপদ করতে দেশে সরকারের পাশাপাশি বেশ কিছু সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। তেমন অগ্রগতি নেই তাতে। প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। তবে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তি সচেতনতায় কমতে পারে এই সড়ক দুর্ঘটনা।
সড়ক দুর্ঘটনায় কার্বন মনোঅক্সাইডের প্রভাব
সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ কার্বন মনোঅক্সাইড, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোতে উল্লেখ করা হয় না। রসায়নবিদদের পরীক্ষালব্ধ তথ্যমতে, গাড়ির কালো ধোঁয়া থেকে নির্গত কার্বন মনোঅক্সাইড প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের শরীরে পৌঁছায়। রক্তের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও হানা দেয় এটি। তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের বিচার শক্তি লোপ পায়।
গাড়িচালকদের দীর্ঘদিন গাড়িতে থাকতে হয়। ফলে তাদেরও বিচার শক্তি লোপ পায়। একই সঙ্গে বেশিক্ষণ ধরে বা বায়ুতে বেশি ঘনত্বের কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস থাকলে, সেই বায়ুতে শ্বাস-প্রশ্বাস চললে বিপাকীয় বৈকল্য দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবে চালকের এসব সমস্যার জন্য দুর্ঘটনা হয়। চালকেরা ধূমপান করলেও নীরব ঘাতক খ্যাত কার্বন মনোঅক্সাইড ধূমপায়ীর স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।
যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া থেকে কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গমন রোধ করা কঠিন কিছু নয়। অন্তর্দাহ ইঞ্জিনের আংশিক পরিবর্তন ও অন্য কোনো শক্তির উৎস সন্ধান, ইঞ্জিনে উচ্চ তাপমাত্রার চেম্বার যুক্ত করে কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গমন রোধ করা যায়। একই সঙ্গে গাড়ির জ্বালানির বিকল্প উদ্ভাবন করতে হবে।
প্রয়োজন সমন্বিত অংশগ্রহণ
বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। সকালে পত্রিকা খুললেই চোখে পরে সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন নিউজ। নিরাপদ সড়ক চাই নীতি প্রণয়ন সম্ভব করার জন্য প্রয়োজন সর্বপ্রথম ব্যক্তি উদ্যোগ। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের অসচেতনতা, উদাসীনতা। সরকারের কার্যমুখী নীতিমালার বাস্তবায়ন ও জনগনের সচেতনতাই পারে একটি নিরাপদ সড়ক ভাবনার সফলতা আনতে।
দেশে গণপরিবহনের সংকট ও দুরবস্থার কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। তাই গণপরিবহনব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে, সড়কের ত্রুটি দূর করতে হবে এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে ব্যক্তির একার পক্ষে এসব নীতিমালার বাস্তবায়নে লড়াই করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত অংশগ্রহণ। সবাই সচেতন হলেই তৈরি হবে একটি নিরাপদ সড়ক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।
অবকাঠামোগত উন্নতিসাধন করতে হবে
‘একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না’ কথাটি যেন আজ চরম বাস্তবতার রূপ নিয়ে দিনদিন বেড়েই চলেছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, রাস্তার অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও মানুষের অসাবধানতার কারণে প্রানহানি বেড়েই চলেছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে আছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ওভারস্পিড, ওভারলোড, বেপরোয়া ওভারটেকিং, চালকের মাদকাসক্তি এবং ট্রাফিক ও রোড সাইন সম্পর্কে অজ্ঞতা। এমনকি আজকাল গাড়ি চালানো বা রাস্তা পারাপারের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলেও দুর্ঘটনা ঘটছে।
নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে গাড়িচালকদের প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসাধারণ ও গাড়িচালকদের সচেতন করতে হবে, সড়ক-মহাসড়ক পথচারীদের সহজেই যাতায়াত করার জন্য জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সাথে রাস্তাঘাট ও যানবাহনের অবকাঠামোগত উন্নতি সাধন করতে হবে। উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার
আমরা চাই সুরক্ষিত জীবন। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে নিরাপদ সড়কের ওপর। আমরা একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে বসবাস করছি। আমাদের বেঁচে থাকার ত্যাগিদেই প্রত্যক্ষভাবে রাস্তায় চলাচল করতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম সড়ক হলেও এটি আমাদের জন্য তা অনিরাপদ। নেই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। চালকের মাদকাসক্তি, অদক্ষতা, হেলপার কর্তৃক গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতিবেগ, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা, ঘুমিয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো, আঁকা-বাঁকা রাস্তা ইত্যাদি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
চালকেরা বেপরোয়া হচ্ছেন দিনদিন, ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। হাজারো মানুষের জীবন যন্ত্রদানবের চাকায় পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অকস্মাৎ মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে হাজারো সাধারণ মানুষকে। তাই আইন সংস্কার করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপর্যুক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমেই আমরা পেতে পারি ‘নিরাপদ সড়ক নিরাপদ জীবন’।
লেখক: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট, প্রাণ এগ্রো লিমিটেড, নাটোর। সূত্র জাগো নিউজ