ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌরুটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মায় হঠাৎ স্রোত বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ- শুধু স্রোত নয়, অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল ফেরির কারণে প্রায়ই এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়েন নদীর দু’পাড়ের মানুষ।
পদ্মা নদীর এক পাড়ে পাবনার নাজিরগঞ্জ, অন্য পাড়ে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া। দুই জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ রুটে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে ফেরি চলাচল। হঠাৎ নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন কারণ দেখিয়ে ফেরি বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ দিন এই রুটে বন্ধ ছিল ফেরি। ২৩ সেপ্টেম্বর চালুর পর ৫ আগস্ট থেকে আবারও বন্ধ ফেরি চলাচল। দু’জেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের এই নৌপথে ফেরি বন্ধ হওয়ায় বিকল্প পথে চলাচলের কারণে সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে পরিবহন খরচ।
যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নৌ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। নদীতে স্রোত বাড়লেই দেখা দেয় সমস্যা। তাদের দাবি, নৌ রুটে পর্যাপ্ত সক্ষমতার ফেরি না থাকায় পুরনো ও দুর্বল ফেরি নাব্যতা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায়ই ব্যাহত হয় পারাপার।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাগেরে তো কষ্টের তো শেষ শেষ আর নাই। এতো কষ্ট আর কত করা যাবে? অচল ফেরি, এগুলো চলে না। আসতে দিতে অনেক সময় লাগে। এগুলোর যদি সমাধান যদি হয় হইলো, না অইলে পরে অন্য একটা ব্যবস্থা করে দিক আমাগরে।’
কর্তৃপক্ষ বলছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত বন্ধ রয়েছে। ফেরি যথেষ্ট শক্তিশালী দাবি করে উপযোগী ফেরি ও অবকাঠামোগত সমস্যা নেই বলে জানান কর্মকর্তা।
বিআইডব্লিউটিসি’র নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থাপক এম এন এ আল শিবলী বলেন, ‘কালকে থেকে হঠাৎ করে উজান থেকে পানি নামতেছে অনেক প্রবল বেগে। ফেরি স্রোতের সঙ্গে কুলায় উঠতে পারতেছে না বুঝছেন, স্রোতের বিপরীতে যাইতে পারতেছে না। না না, ফেরির ফিটনেস আছে। ফেরির ফিটনেস না থাকলে ফেরি চলবে কেমনে? ফেরির তো একটা ইয়া আছে, সার্ভে হয় বুঝছেন? এটা এটার এটার জন্য আরেকটা কর্তৃপক্ষ আছে। ফেরির সার্ভে সার্টিফিকেট আছে না? স্রোতের যে গতিবেগ, এই গতিবেগে আসলে কোনো ফেরিই চলতে পারবে না।’
নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটে ফেরি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়ছে জাতীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বারবার ফেরি বন্ধ হওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।