ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাবেক সেনাসদস্য ও সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকিরকে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় স্ত্রী আনন্দিতা রাংসা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল (শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার পর মামলাটি দায়ের করার পর নথিভুক্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির ‘রূপসী বাংলা’ নামের একটি বেসরকারি আইপিটিভির নেত্রকোণা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি।
শুক্রবার রাতে স্বজনদের সঙ্গে থানায় আসেন দ্বিতীয় স্ত্রী আনন্দিতা রাংসা। এসময় তিনি বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
অভিযোগপত্র দায়ের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নিহত সাংবাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী আনন্দিতা রাংসা। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগ দায়ের করলাম। এখন আমি চাচ্ছি আমার স্বামী যেন সুষ্ঠু বিচার পায়। যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, যারা তাকে এভাবে কষ্ট দিয়েছেন, তাদের যেন শাস্তি হয়। একদম সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ তাদের যেন ফাঁসি হয়। আমি এটাই চাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুটি ছোট ছোট বাচ্চা। তাদেরও তো একটা নিরাপত্তা দরকার আছে, তাই না? উনারা আমার স্বামীকে এরকম করলো, আমার ছোট বাচ্চাদের ওপর যে এরকম হবে না, তার কী গ্যারান্টি? এজন্য আমি চাই, তাদের যেন একদম সুষ্ঠু বিচারটা হয়। ঢুকবে-বেরোবে এরকম না, একদম যেন ফাঁসি হয়। যেন এরা আর আমার ফ্যামিলিকে কিছু করতে না পারে। আমি ভীষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ঘরের পাশেই আলিফকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে আনন্দিতা বর্তমানে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো নিরাপদ না। এই যে এখন বাসায় যাবো, রাতটা কাটাবো কীভাবে? ঘুম আসবে না তো। কখন কী হয়, আমার সঙ্গে তো দুইটা ছোট বাচ্চা আছে। আমার যে ঢাল ছিলো, উনিও আমার সঙ্গে নেই।’
এদিকে শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাসুদ রানা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কাল থেকেই আমাদের অফিসাররা ঘটনাস্থলে ও এর আশপাশের এলাকায় কাজ করছেন। সিভিলে কাজ করার পাশাপাশি আমাদের ছায়া তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে মূলত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা এবং মামলাটি থানায় রুজু হয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার পর আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখবো এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলবো। আমাদের লিয়াজো বা যোগাযোগ যদি ভালো থাকে, তাহলে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করা সহজ হবে। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়েও আমরা যৌথভাবে কাজ করবো, যাতে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলঞ্জি এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির সামনের চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এসময় পাঁচটি গুলিতে বিদ্ধ হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির। পরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম বুলেটও উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের চরুলিয়া মাইজপাড়া ফকিরবাড়িতে দাফন করা হয় নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকিরকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের তেরি বাজার সোমেশ্বরী নদী পারে হামলার শিকার হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জাম ফকির। সেই মামলার তদন্ত শেষে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দু’জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।