ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে কার্যত লকডাউনের কবলে দিল্লি। বন্ধ মেট্রো-ট্রেন-ইন্টারনেট পরিষেবা। সহিংসতা এড়াতে রাজধানীজুড়ে ২৩ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। গতকাল (শুক্রবার, ৯ অক্টোবর) রাত থেকে আটক করা হয়েছে ৪০০ এর বেশি সন্দেহভাজনকে। আজ (শনিবার, ১০ অক্টোবর) সকালে মাইক বাজিয়ে যন্তর মন্তরের আশেপাশে ঘোরাঘুরি না করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। ভেন্যুতে প্রবেশ করার সময় আটকানো হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
দিল্লির যন্তর মন্তর। ভোরের আলো ফোটার আগেই পুরো এলাকায় গিজগিজ করছে পুলিশ-প্যারামিলিটারি সদস্যরা। জায়গায় জায়গায় ব্যারিকেড। পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে গিয়ে বিপাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই যন্তর মন্তরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির লাগাতার বিক্ষোভ। শুক্রবার রাত থেকেই কার্যত অচল রাজধানী নয়াদিল্লি।
বারবার আবেদনের পরও ককরোচ পার্টিকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। যদিও শুক্রবার থেকেই দিল্লিজুড়ে চলছে উচ্চ সতর্কতা। প্রতিটি মোড়ে বসেছে চেকপোস্ট, ব্যাপক তল্লাসি করছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
সিজেপি সমর্থকদের দিল্লি আসা ঠেকাতে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক, কাশ্মীর গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ পথ বন্ধ করেছে পুলিশ। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা আড়াইশো’র বেশি মেল ও লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কার্যত বন্ধই করা হয়েছে নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন।
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে নয়া দিল্লির সেন্ট্রাল পয়েন্ট— অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। এত বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের নিয়ে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি সফলভাবে শুরুর বার্তা দিয়েছেন সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
যদিও শুক্রবার সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের যন্তর মন্তরে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। বিক্ষোভস্থলের যাওয়ার রাস্তা বরাবর অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে।
যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এবং দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এই সুনির্দিষ্ট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার পুলিশ। আর পুরো রাজধানী চষে বেড়াচ্ছে ২৩ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। সংবেদনশীল স্থানগুলিতে স্থাপন করা হয়েছে অডিও রেকর্ডিং ক্ষমতাসম্পন্ন ৩০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা।
সিজেপি’র বিক্ষোভের কোনো অনুমোদন নেই—কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ এবং আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকে এই বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের গোয়েন্দাগুলো। নয়া দিল্লিগামী ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে, বিধি অমান্য করলে গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে পারেন। নয়াদিল্লি এবং মধ্য দিল্লি জুড়ে লজ ও হোটেলগুলোতেও চলছে তল্লাশি। হোটেল ম্যানেজারদের সন্দেহভাজন অতিথিদের রুমভাড়া দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।