| সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর ও মহাসড়কে বাস আটকে রাখার ঘটনার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গার ৫টি আন্তঃজেলা লোকাল রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাসচালকেরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের এ কর্মসূচির কারণে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। লোকাল বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে যাতায়াত করছেন অনেকে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখি ভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাস শ্রমিকদের বিরোধ হয়। একপর্যায়ে বাসশ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তাদের।
বাস শ্রমিকদের অভিযোগ, এর আগে ইজিবাইকচালকেরা ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়কে বাস আটকে রাখেন। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে এ অবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা। পরে হামলা ও বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে সোমবার থেকে লোকাল বাস ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিক ও বাস মালিক ঐক্যপরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভায় ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে চুয়াডাঙ্গার দূরপাল্লার বাসও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে জানতে পারি বাস বন্ধ। জরুরি কাজে বাইরে যেতে হচ্ছে, তাই ইজিবাইকই এখন একমাত্র ভরসা। বাসের তুলনায় এতে ভাড়া বেশি এবং দীর্ঘপথে সময়ও বেশি লাগে। শ্রমিকদের কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়।
নারী যাত্রী তাসলিনা নাছরিন বলেন, বাস চলাচল না করায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাতায়াতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দূরের পথে ইজিবাইকে যেতে খরচ যেমন বেশি, সময়ও লাগে বেশি। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি আরও বেশি। সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে আসা প্রয়োজন।
আরেক যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, বাস বন্ধ থাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। এভাবে বাস চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মহাসড়কে গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদেই শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। মহাসড়কে ইজিবাইকের এমন স্বেচ্ছাচারিতা মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে লোকাল বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজকের আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘটনার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দূরপাল্লার বাসও বন্ধ থাকবে।