| সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহন বিলম্বিত হয়েছে।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম টেলিফোনে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো উড়োজাহাজ ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে ফ্লাইটটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।”
তিনি বলেন, “পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।”
মন্ত্রী আরও জানান, চালানটি আনার জন্য নতুন একটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চালানটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এরপর কর্মকর্তাদের জানানো হয়, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, “আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আমাদের জানান, আকাশসীমার অনুমতি পাওয়া যায়নি। তাই আমরা এটি পাঠাতে পারিনি। নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।”
তবে কোন দেশ ফ্লাইটটির আকাশপথ ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, তা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করতে পারেননি। বিষয়টি স্পষ্ট করতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা রোসাটমের এক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে এএনআই। তবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী রূপপুর গ্রামে নির্মাণ করা হচ্ছে। রোসাটমের কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে।
প্রকল্পটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ইউনিট রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রথম ইউনিটের জন্য স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়ার একটি কার্গো উড়োজাহাজে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
পরে বিকিরণ প্রতিরোধী কনটেইনারে করে সুরক্ষিত ‘গ্রিন করিডর’-এর মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয় ওই জ্বালানি। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
গত এপ্রিলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পথ তৈরি হয়।