| সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সড়ক নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলো থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাস্তবে কতটা কাজে লাগছে, তা মূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের সুপারিশ ও প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা না গেলে সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) আয়োজিত ‘সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্প শেষে কী অর্জন হলো এবং অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে কতটা প্রয়োগ করা যাচ্ছে, সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। আমরা কত টাকা ব্যয় করছি, তার হিসাব আছে। কিন্তু অর্জন কতটা হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণের জিজ্ঞাসা আছে। এত ব্যয় করে যা শিখছি, তার বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটি দেখতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে নয়, দুর্ঘটনার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই সড়ক নির্মাণ ও বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা করতে হবে। অতীতের দুর্ঘটনার তথ্য ভবিষ্যতের অবকাঠামো নির্মাণে কাজে লাগাতে হবে।
সড়ককে শুধু যান চলাচলের অবকাঠামো হিসেবে না দেখে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্মাণের সময় থেকেই সড়কের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার পর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রচলিত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ক্ষতি বড় হওয়ার আগেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশের জন্য আলাদা বিশেষায়িত বিভাগ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ বিভাগের সদস্যদের সড়ক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বে ধারাবাহিকতা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কারও ভুল, স্বেচ্ছাচারিতা বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে মানুষের প্রাণহানি গ্রহণযোগ্য নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি জানান, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হয়ে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধু প্রকৌশলগত বিষয় নয়। এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও সরাসরি জড়িত। এ কারণে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি ক্র্যাশ ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, হালনাগাদ ম্যানুয়াল নিয়মিত কাজে ব্যবহার এবং সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, এডিবি, উন্নয়ন সহযোগী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ধারাবাহিক সহযোগিতা বাংলাদেশে নিরাপদ ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিরাপদ ও টেকসই সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকবে।
কর্মশালায় জানানো হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান ফান্ড ফর পোভার্টি রিডাকশনের (জেএফপিআর) অনুদানে ২০২২-২০২৬ মেয়াদে সওজের সড়ক নিরাপত্তা ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজ তৈরি, রোড সেফটি অডিট এবং সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সওজের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ হয়েছে।
কর্মশালায় এডিবি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ, সওজ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।