| সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ছুটিতে দেশে এসে ভিসা বাতিলের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে দেশটির সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিরা। একই সঙ্গে আগের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং ভিসা জটিলতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ঐক্যের পক্ষে মোহাম্মদ আবুল কালাম লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইউএইতে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। কিন্তু ছুটিতে দেশে ফেরার পর অনেকের ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ায় আমরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছি না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে আমাদের অনেক প্রবাসী ও তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে ইউএই সরকারের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা করার দাবি জানাচ্ছি। ভিসা বাতিল ও পুনরায় ভিসা পাওয়ার জটিলতা দ্রুত নিরসনে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়েরও আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বর্তমানে ইউএইতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসা নবায়ন, পুনরায় ভিসা পাওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। বৈধভাবে কর্মরত বাংলাদেশিদের ভিসা সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি তাদের বৈধ অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলার সেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে হবে। ভিসা ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের দ্রুত সহায়তা দিতে কূটনৈতিক মিশনগুলোর সেবার সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের পাশাপাশি পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা ভাতা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আরব আমিরাতে পুনরায় পাঠানো সম্ভব না হলে সরকারের উদ্যোগে উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সে পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছি।
দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী পেনশন বা কল্যাণ ভাতা চালুর দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’ ঘোষণা করতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা।