|

Advertise with us

‘বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ, তাহসিফকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়’

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

‘বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ, তাহসিফকে হত্যা করে নদীতে ফেলা হয়’

বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরি। পরদিন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে কে বা কারা, কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কে এম এনায়েতুল করিম এ অভিযোগ করেন।

তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর এক বন্ধু বাসায় এসে তাহসিফকে ডাকেন। তখন তাহসিফ তার মাকে বলেন, নিচে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসবেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ছেলের সঙ্গে কারও বিরোধ বা ঝামেলা ছিল কি না, জানতে চাইলে এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও সামাজিক ছিলেন। কারও সঙ্গে তার ঝগড়া-বিবাদ বা কোনো ধরনের বিরোধ ছিল বলে আমার জানা নেই। এ কারণে কী ঘটেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।

তাহসিফের বাবা জানান, তিনি ছেলের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতেন। ছেলে তার সঙ্গে অনেক কিছু শেয়ার করতেন। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও কথা বলতেন। চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার কারণে কিছুটা খারাপ লাগা স্বাভাবিক হলেও এ নিয়ে তার বড় কোনো সমস্যা ছিল বলে মনে করেন না তিনি।

ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করেন কি না, জানতে চাইলে কে এম এনায়েতুল করিম বলেন, আত্মহত্যার প্রশ্নই আসে না। তাহসিফ অত্যন্ত প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। বিমানবাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি উড্ডয়নেও তিনি ভালো ছিলেন।

তিনি বলেন, তাহসিফের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। তাই ছেলের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখতাম। আমার বিশ্বাস, তাহসিফ আত্মহত্যা করেননি। বরং তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

তাহসিফের কর্মজীবন সম্পর্কে তার বাবা জানান, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজের সঙ্গে কাজ করেছেন। সবশেষ ভার্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় বিশ্রামে ছিলেন বলেও জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর পেছনে কী কারৃণ থাকতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই জানিয়ে এনায়েতুল করিম বলেন, ঘটনার দিনও তাহসিফ মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছেন এবং বাবার জন্যও কেনাকাটা করেছিলেন। এরপর দ্বীপ নামে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে নিচে যাওয়ার কথা বলে বের হন। তার ধারণা, স্বাভাবিকভাবে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পর এমন ঘটনা ঘটবে, তা পরিবারের কেউ ভাবতে পারেননি।

তিনি বলেন, ছেলের মা একাধিকবার তার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করলেও যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত ১টার পর তাহসিফ তার মাকে মেসেজ দিয়ে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন।

তাহসিফের বাবা জানান, বুধবার দুপুরের দিকে তিনি থানায় গিয়ে ছেলের খোঁজ করেন। তখন পুলিশ তাকে জানায়, ছেলের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করা হয়। তার ও ছেলের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জানানো হয়, তুরাগ নদে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে।

রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওই এলাকায় তার ছেলে কখনো যেতেন না। তারপরও সেখানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা তারা বুঝতে পারছেন না। কে বা কারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে, সে বিষয়েও তারা কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

এদিকে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের পর তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও মরদেহ নিতে স্বজনদের উপস্থিতি নিয়ে জটিলতার কথা জানান মর্গসংশ্লিষ্ট সূত্র ও মরদেহ নিয়ে আসা নৌ পুলিশের এক সদস্য। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে মরদেহের সঙ্গে একজন স্বজন হাসপাতালে এসেছিলেন। পরে তিনি চলে যান।

যে লাশবাহী গাড়ি করে সাবেক এই কর্মকর্তার মরদেহ আনা হয় সেই চালক সামিউল বলেন, আমাকে মালিক বলেছে এখানে মরদহ নিয়ে আসতে। এখন ভেতরের কাজ শেষে মরদেহ আবার গাড়িতে তোলা হয়েছে, আমি উত্তরায় নিয়ে যাব। এর বেশি জানি না কিছু। আমার সঙ্গে মৃত ব্যক্তির পরিবারের কেউ নেই।

এদিকে ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার জানান, তাহসিফের মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নৌ পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেওয়া হয়। পরে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় তার পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। হাতে থাকা ঘড়ি ও পকেটে পাওয়া আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
৯ ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে, পতন...
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে দেশের...
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
‘বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে...
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হতে...
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের...
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বরগুনায় নিরাপদ সড়ক দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত...
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact