|

Advertise with us

আজ থেকে ভারতের ইলিশ আমদানি বন্ধ, ১০৩ অনাপত্তি সনদ বাতিল

  |   বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আজ থেকে ভারতের ইলিশ আমদানি বন্ধ, ১০৩ অনাপত্তি সনদ বাতিল

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি আজ থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (NOC) বাতিল করায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২২ সেপ্টেম্বর ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সম্ভাবনা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়াতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এদিকে হঠাৎ ইলিশ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকেরা।

বন্দর-সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে যায়। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে ইলিশ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা রহিম জানান, আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিকভাবে মিল থাকায় দেশি ইলিশ ভেবে ভারতীয় ইলিশ কিনছেন ক্রেতাদের কেউ কেউ।

তথ্য বলছে, সম্প্রতি বাজার তদারকির সময় চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির অভিযোগে কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দেশীয় ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ কমতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। এ ছাড়া বাজারমূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানি করা হলে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ইলিশ আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

ইলিশ আমদানিকারক সৈয়েদ মহিদুল হক রুবাই বলেন, ‘হঠাৎ আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।’ তিনি বলেন, আমদানির উদ্দেশ্য ওপারে তাদের ক্রয়কৃত ইলিশ রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া আমদানি খরচের লোকশান তো রয়েছেই।

বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরে ৫৩৫ টন ইলিশ আমদানি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৩৫ টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি হবে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

 

Advertise with us
Advertise with us
মহানগরে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০...
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাসের পর বাড়লো লঞ্চের ভাড়াও
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজ থেকে ভারতের ইলিশ আমদানি...
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুটি বাস পুড়িয়ে জনগণকে ভয়...
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন...
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact