|

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

  |   সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

দেশের ২২টি ব্যাংক লোকসানে রয়েছে। এগুলোর মোট লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। তারল্যসংকট সামাল দিতে চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (ব‌্যাংক) বর্তমান অবস্থা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল রোববার এই সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ, ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের সম্পদ ও মূলধনের বিপরীতে আয়ও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। মার্চ, ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের সম্পদের ওপর উপার্জন হার ঋণাত্মক ১.০৩ শতাংশ এবং মূলধনের ওপর উপার্জন হার (ROE) ঋণাত্মক ৪৪.২২ শতাংশ নির্ণীত হয়েছে।

লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক হলো—বিকেবি ও রাকাব। ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দি প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন এবং একটি বিদেশি ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এই ২২ ব‌্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলোর লোকসানের কারণও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর উপার্জন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জিত হলেও প্রভিশন, অন্যান্য ব্যয় ও সম্ভাব্য ঋণজনিত ক্ষতি সমন্বয়ের পর অনেক ব্যাংকে নিট ক্ষতি হচ্ছে।

১২ ব্যাংককে ৮৪ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা সহায়তা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ল্যান্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে ১২টি ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা বা ডিমান্ড লোন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি ৩২ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪২ কোটি ৭৯ লাখ, এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি ২৫ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩৫ লাখ, ইউনিয়ন ব্যাংককে ৫ হাজার ৪২১ কোটি ১৬ লাখ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে ৩ হাজার ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট শেষে ব্যাংক ব্যবস্থার মোট তরল সম্পদ—নগদ ও সরকারি সিকিউরিটিজসহ; দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ লাখ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে এর পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ১ লাখ কোটি টাকা। তবে ব্যাংক ব্যবস্থার এই তরল সম্পদের বণ্টন সুষম নয়। অধিকাংশ প্রচলিত ধারার ব্যাংকে পর্যাপ্ত তরল সম্পদ থাকলেও কিছু প্রচলিত ধারার ব্যাংক এবং অধিকাংশ ইসলামী ধারার ব্যাংকে তারল্য ঘাটতি রয়েছে। এ তরল সম্পদের সিংহভাগ সরকারি সিকিউরিটিজ—ট্রেজারি বিল ও বন্ডে; বিনিয়োগ হিসেবে রয়েছে।

খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। তিন মাস আগে, অর্থাৎ ৩১ মার্চ খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

খেলাপি ঋণের উচ্চহার কমাতে ১০ শতাংশের বেশি শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে—এমন ব্যাংকগুলোর সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আলোচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ ভিত্তিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৪০টি ব্যাংক ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ১৫টি ব্যাংকের মূলধন ঋণাত্মক।

কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস‌্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, সফিকুর রহমান কিরন, সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাইফুল আলম। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন‌্য দলের পক্ষ থেকে তাঁরা একটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। এতটুকু দেশে এত ব্যাংক দরকার নেই, প্রায় ৬৩টি ব্যাংক আছে।

সাইফুল আলম বলেন, কোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), অতিরিক্ত এমডি, ডিএমডিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া চেয়ারম্যান বা পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করতে পারবে না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে এনসিপির এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ অর্থঋণ ও উচ্চ আদালতে আটকে থাকা ৭৪ হাজার ৬৭৯টি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নিতে এবং প্রয়োজনে পৃথক বেঞ্চ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ঋণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিনির্ধারণের জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। সূত্র আজকের পত্রিকা

Advertise with us
Advertise with us
১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত...
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ...
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭...
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact