ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
স্লিপার বাসে বাধ্যতামূলক হচ্ছে নতুন চেসিস, এয়ার সাসপেনশনস্লিপার বাসের সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের বাসের বডি নির্মাণ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) খসড়ায় পুরোনো বা ব্যবহৃত চেসিস দিয়ে স্লিপার বাস তৈরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পেছনে টেনডেম এক্সেল, সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন ও এবিএস বা উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে।
সম্প্রতি ‘স্লিপার বাস গাইডলাইন/নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে খসড়াটি তৈরি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছে বিআরটিএ। খসড়ায় বাসের কাঠামো, বার্থ, স্থিতিশীলতা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন শর্ত রাখা হয়েছে। তবে নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে সারা দেশে ৮০০টির বেশি স্লিপার বাস চলাচল করছে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, চালক ছাড়া কমপক্ষে ১৩ জন যাত্রী বহনের উপযোগী এবং যাত্রীরা শুয়ে বা আরাম করে ভ্রমণ করতে পারেন— এমন বাসকে স্লিপার বাস বলা হবে। দেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ অবস্থায় কোনো স্লিপার বাস আমদানি করা হয়নি। এ ধরনের বাসের বডি তৈরির বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও নেই। তাই বিভিন্ন দেশের অনলাইন গাইডলাইন থেকে তথ্য নিয়ে ‘জরুরি প্রয়োজন ও বিশেষ বিবেচনায়’ খসড়াটি তৈরি করেছে বিআরটিএ। সংস্থাটি বলেছে, অনুমোদন ছাড়াই স্লিপার বাস নির্মাণ করে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
স্লিপার বাস তৈরিতে সম্পূর্ণ নতুন চেসিস ব্যবহারের শর্ত রাখা হয়েছে। বাসের পেছনে টেনডেম এক্সেল এবং সব এক্সেলে এয়ার সাসপেনশন বা উন্নত প্রযুক্তির সাসপেনশন রাখতে হবে। ব্রেকিং ব্যবস্থায় এবিএস বা উন্নত প্রযুক্তি থাকতে হবে। স্থিতিশীলতা পরীক্ষার সময় প্রতিটি বার্থে ৭৫ কেজি ওজন প্রয়োগ করতে হবে। যাত্রী ও মালামালসহ বাসের সর্বোচ্চ ওজন ২১ টন এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ২৫ মিটারের বেশি হতে পারবে না।
প্রতিটি বার্থের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ১ হাজার ৮০০ মিলিমিটার রাখতে হবে। এক সারিতে তিনটি বার্থ থাকলে প্রতিটির প্রস্থ কমপক্ষে ৬০০ মিলিমিটার এবং দুটি থাকলে ৬৫০ থেকে ৭৫০ মিলিমিটার রাখতে হবে। প্রতিটি বার্থে ৩০০ কেজি ওজন বহনের সক্ষমতা এবং দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখতে হবে। উপরের বার্থে ওঠার জন্য হাতলসহ সিঁড়ি, কলিং লাইট ও কলবেল, রিডিং লাইট, হেডরেস্ট, আর্মরেস্ট এবং খাবারের ট্রে রাখার ভাঁজযোগ্য টেবিল রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তায়ও একাধিক শর্ত রাখা হয়েছে। প্রতিটি বাসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ও কমপক্ষে তিনটি স্মোক ডিটেক্টর রাখতে হবে। জরুরি নির্গমন দরজা, নিচের ও ওপরের ডেকে জরুরি জানালা, সেফটি গ্লাস ভাঙার হাতুড়ি এবং সার্ভিস দরজার এয়ারলক খোলার ম্যানুয়াল ভালভ রাখতে হবে। বার্থের প্যাডে অগ্নিপ্রতিরোধক ফোম এবং আসনের কভার, পর্দা, প্লাইউড ও ফ্লোরিংসহ অভ্যন্তরীণ উপকরণে নির্ধারিত দাহ্যতা মান নিশ্চিত করতে হবে।