ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে সড়ক অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম।
হাটের দিনেও বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কম। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন অবরোধকারীরা। এ পরিস্থিতিতে সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীসহ অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সাজেক থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবরোধের কারণে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।
সাজেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। গত ১১ অক্টোবর সংগঠন দুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ শুরু করে। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।
তবে দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে বুধবার (১৪ অক্টোবর) যৌথ বিবৃতিতে আবারও অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের অবস্থান রয়েছে। এসব সদস্যকে সরিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
এর আগে অবরোধের মধ্যে সাজেকে আটকে পড়া দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় গাড়িবহর রওনা হলে উজো বাজার এলাকায় গাড়িবহর আটকে দেন অবরোধকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর পর্যটকবাহী গাড়িবহর চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
সাজেকে সম্প্রতি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯)। ধারাবাহিক গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অবরোধের কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের পাশাপাশি সাজেকের পর্যটন কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল।