ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকগুলোর করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি বা সিএসআর ব্যয়ে বড় ধরনের পতন হয়েছে। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের তুলনায় এসময়ে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় কমেছে ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সিএসআরের গুরুত্বপূর্ণ তিন খাতেই ব্যয় কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে মোট ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছিল। বিপরীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ নেমে এসেছে ১১৯ কোটি ৪ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিএসআর ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত শিক্ষা। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এ খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৪৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, শিক্ষা খাতে ব্যয় কমেছে ২০ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য খাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে এ খাতে ব্যাংকগুলো ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় করেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুনে ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এতে ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে সিএসআর ব্যয় কমেছে ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বা ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয়ের পতন হয়েছে আরও বেশি। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এ খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে তা নেমে এসেছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকায়। ফলে এ খাতে ব্যয় কমেছে ১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৫৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, প্রধান তিন খাতের বাইরে অন্যান্য খাতে সিএসআর ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে এসব খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুনে তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ, অন্যান্য খাতে ব্যয় বেড়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।
বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় বেড়েছে
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্যান্য খাতের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলো ৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ২ কোটি ২ লাখ টাকা এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এছাড়া আয়-উৎসারী কর্মকাণ্ডে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উপখাতে ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
কীভাবে নির্ধারিত হয় সিএসআর ব্যয়
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর কার্যক্রমকে মূলধারায় আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৮ সালে প্রথম এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিএসআর ব্যয়ের বিভিন্ন খাত ও নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুযায়ী, সিএসআর ব্যয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমানভাবে ৩০ শতাংশ করে মোট ৬০ শতাংশ বরাদ্দের নির্দেশনা রয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে ব্যয়ের নির্দেশনা রয়েছে ২০ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ আয়-উৎসারী কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ অন্য খাতগুলোতে ব্যয় করা যায়।
তবে কোনো ব্যাংক নিট লোকসানে থাকলে সিএসআর খাতে ব্যয় করতে পারে না। মুনাফায় থাকা ব্যাংকগুলো তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও নীতির ভিত্তিতে সিএসআর ব্যয় করে।
আর্থিক চাপের প্রতিফলন হতে পারে
ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় কমে যাওয়াকে শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ব্যাংকখাত গবেষক এবং গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি।
তিনি বলেন, সিএসআর ব্যয় কমার বিষয়টি ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, মুনাফা, খেলাপি ঋণ এবং সামগ্রিক ব্যাংক খাতের চাপেরও প্রতিফলন হতে পারে।
এক বছরে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ৬১৬ কোটি টাকা
‘বর্তমানে অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন সংকট ও পরিচালন ব্যয়ের চাপে রয়েছে। ফলে মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হলে সিএসআরের মতো ব্যয় কমে আসা স্বাভাবিক।’
হেলাল আহমেদ আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেই একসঙ্গে ব্যয় কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর আর্থিক চাপের বিষয়টি প্রতিফলিত হতে পারে।
‘তাই শুধু সিএসআরে মোট কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, সেটিই নয়; কোন খাতে এবং কী ধরনের কাজে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার গুণগত দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার’—যোগ করেন এ ব্যাংকখাত গবেষক। সূত্র জাগো নিউজ