ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ১৫ বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে বন্দরে দিনব্যাপী গণঅনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের কাস্টমস ভবনের বিপরীতে সকাল ১১টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
এতে বন্দর রক্ষা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতা ও সাধারণ কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এবং ‘জাতীয়তাবাদী বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক দল’-এর যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, গত ৮ অক্টোবর জনমত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং বন্দর ব্যবহারকারী কিংবা শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একতরফাভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের খবরের পরপরই বন্দর এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে, যার ধারাবাহিকতায় চার দিনের মাথায় সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা রাজপথে নামেন।
গণঅনশন কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের প্রধানতম বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারকে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, ভৌগোলিক নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে। সরকার বন্দর পরিচালনায় আধুনিকায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত করার কথা বললেও মূলত এটি একটি বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার কৌশল।
বক্তারা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার পর বন্দরে কর্মরত দুই শতাধিক কর্মচারীর কাজের ধরণ ও চাকরির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা দেওয়া হয়নি। যে শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামে চট্টগ্রাম বন্দর আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, আজ তাদেরই জীবিকার নিরাপত্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, কোনো অজুহাতেই চট্টগ্রাম বন্দরের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দীর্ঘমেয়াদে সুযোগ না দিয়ে বর্তমান কাঠামোতেই অথবা দক্ষতা সম্পন্ন দেশীয় ব্যবস্থাপনায় বন্দর পরিচালনার দাবি জানান তারা।
অবিলম্বে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও ধারাবাহিক কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা।