| বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজধানীতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে যাতে এক সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির পর আরেক সংস্থা একই সড়কে আবার কাজ করতে না আসে সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা শহরের মেগা প্রকল্পজনিত যানজট রোধে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বিতভাবে করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্তৃপক্ষ ও স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে নগরবাসীর ভোগান্তি কমানো এবং একই জায়গায় বারবার খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান উন্নয়নকাজ সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের জন্যও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি ১৫ দিন পর পর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তা পর্যায়েও প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় সভা করার জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীতে বর্তমানে মেট্রোরেল, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সেতু কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা ও ডেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থার বড় বড় উন্নয়নকাজ চলছে।
এসব কাজ যাতে সমন্বিতভাবে হয়, সে জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) নেতৃত্বে সমন্বয় সভা হবে।
তিনি বলেন, একেকটা ডিপার্টমেন্ট একেক সময় হয়তো তাদের ওয়ার্ক অর্ডার দেয়। কিন্তু যখন প্র্যাকটিক্যালি কাজটা রোডের মধ্যে এসে করতে হবে, ইউটিলিটি শিফট করতে হবে অথবা কনস্ট্রাকশন করতে হবে, যাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে হয় সেটা আমরা চেষ্টা করছি।
মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল নির্মাণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ইউটিলিটি শিফট করতে হচ্ছে। এসব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গেও সমন্বয় করতে হচ্ছে। কারণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে ট্রাফিক সিস্টেমটা উন্নত করছি। সেই জায়গায় মানুষজন কমফোর্ট পাচ্ছে, নগরবাসী কমফোর্ট পাচ্ছে। একটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে আসছে আমাদের যান চলাচল।
উন্নয়নকাজের কারণে যাতে নতুন করে ট্রাফিক হ্যাজার্ড তৈরি না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের ব্যয় ও সময় কমানো এবং জনভোগান্তি কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওভারনাইট তো আমরা এর মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারব না, আমরা শুরু করেছি। আশা করি একদিন আমরা এই সিস্টেমে যেতে পারব।
রাজধানীর যানজট কমাতে বাসস্ট্যান্ডগুলোও পর্যায়ক্রমে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, বাসস্ট্যান্ডগুলো শহরের বাইরে নেওয়ার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলোর অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে একসঙ্গে অনেক মানুষ যাতে বেকার হয়ে না যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব যান মহানগরের বাইরে বা অন্যান্য শহরে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছোট থ্রি-হুইলার মূল সড়কে চলার কথা নয়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করছে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো। এগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে।