| বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে এ জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কেট) দরের সঙ্গে ৬ সেন্ট যোগ করে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর নির্ধারণ করা হয়েছে। জেকেএম অনুসারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির সর্বশেষ দর ছিল ২৪ ডলার ৩৯ সেন্ট।
দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি মাসে দুটি করে এ বছরের অক্টোবর থেকে সামনের বছরের জুন পর্যন্ত এ জ্বালানি কেনা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে ১৮ কার্গোর বাইরে আরো অতিরিক্ত এলএনজি কেনার সুযোগ থাকছে। কমিটির অনুমোদনের পর এলএনজি কিনতে টোটাল এনার্জিসের সঙ্গে চুক্তি হবে। এ গ্যাস কেনা হবে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে এ জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কেট) দরের সঙ্গে ৬ সেন্ট যোগ করে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর নির্ধারণ করা হয়েছে। জেকেএম অনুসারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির সর্বশেষ দর ছিল ২৪ ডলার ৩৯ সেন্ট। বাংলাদেশে আমদানি করা একেকটি এলএনজি কার্গোতে সাধারণত ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে। সে হিসাবে বর্তমান দরে প্রতি কার্গো এলএনজির দাম পড়বে প্রায় ১ হাজার ১০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কর্মকর্তারা বলছেন, টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে তুলনামূলক কম প্রিমিয়ামে এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে গানভরের কাছ থেকে ৮ সেন্ট প্রিমিয়ামে এলএনজি কেনা হয়েছে। এমনকি কোনো ক্ষেত্রে ১৫ সেন্ট পর্যন্ত প্রিমিয়াম দিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে জেকেএম দর কমে গেলে বর্তমানের চেয়ে কম দামে এলএনজি পাওয়া যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে গত কয়েক মাসে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ ডলার ৩ সেন্ট দরে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এতে এক কার্গো এলএনজির দাম পড়েছে ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। যুদ্ধের আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্পট মার্কেটে জেকেএম এলএনজির দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ১২ ডলার ২০ সেন্ট। সর্বশেষ গতকাল এটি ২৪ ডলার ৩৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে চলতি অর্থবছরে ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির কথা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে প্রতিবন্ধকতার কারণে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি কমে গেছে। স্পট থেকে কার্গো আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। বিদ্যমান বাজারদর অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হতে পারে ৯০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এলএনজি খাতে ভর্তুকি রাখা হয় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা, যদিও অর্থবছরের প্রথম দেড় মাসেই পেট্রোবাংলা ভর্তুকি নিয়েছে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এলএনজি কার্গো আমদানি করা হয়েছে ১১৩টি। এসব কার্গো আমদানিতে ব্যয় হয়েছে মোট ৫৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে ভর্তুকি লেগেছে আরো ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
দেশে প্রতিদিন গড়ে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দুটি এলএনজি টার্মিনাল ও স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে গড়ে ২৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেয়া যায়। স্থানীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে গতকাল প্রায় ২২৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। দেশে গ্যাসের সরবরাহ ও সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। আবাসিক পর্যায়েও গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কয়েকটি কার্গো বাংলাদেশে এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। এতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমবে।