|

Advertise with us

কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি

  |   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে সাড়ে ৫ কোটি টাকার রপ্তানি

১২১ টন পণ্যের অস্তিত্বই নেই। অথচ অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ডে দেখানো হয়েছে, ৪ লাখ ৩৮ হাজার মার্কিন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। ডিপোতে পণ্য প্রবেশের আগেই কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। এমন একটি গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে।

গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে এ অনিয়ম ধরা পড়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। এনবিআরের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিশেষ তৎপরতায় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫টি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাগজপত্র ও অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানির তথ্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোতে বাস্তবে পণ্যের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে রপ্তানি কনসাইনমেন্ট যাচাইকালে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের ৫টি রপ্তানি চালান কাস্টমস গোয়েন্দার নজরে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণেই রপ্তানির গন্তব্য দেশ, পণ্যের প্রকৃতি ও ঘোষিত মোট ওজনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হওয়ায় চালানগুলো আটক করে অধিকতর যাচাই শুরু করা হয়।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ ছাড়াও জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও রাশিয়াতেও তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু ওই ৫টি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইন উল্লেখ করা হয়, যা গোয়েন্দা বিশ্লেষণে অধিকতর যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।

বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটির গত এক বছরে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে এ পরিমাণ স্বাভাবিক ইনপুট-আউটপুট কো-এফিশিয়েন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রতীয়মান।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব, তদন্ত কমিটি গঠন

দাখিলকৃত বিল অব এক্সপোর্টের তথ্য অনুযায়ী পণ্যগুলো ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ডিপোতে গিয়ে পণ্যগুলো পরীক্ষণের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই প্রদর্শন করতে পারেনি। বরং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ডিপোতেই প্রবেশ করেনি। পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করা সত্ত্বেও চালানগুলোর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা কীভাবে সম্পন্ন হলো, সে বিষয়ে ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রায় ১২১ টন পণ্যের বিপরীতে প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রপ্তানি দেখানো হলেও সরেজমিন যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে ঘোষিত পণ্যের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পণ্যের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই ৫টি চালানের বিপরীতে রপ্তানি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছিল।

কাস্টমস হাউস, আইসিডি, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে থাকা বিভিন্ন ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি হয়। রপ্তানি পণ্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট কন্টেইনার ডিপোতে প্রবেশ করে এবং প্রয়োজনীয় কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিন্তু এ ঘটনায় পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে রপ্তানির কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সূত্র সমকাল

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
ইতালিতে বাঁধন এর উপর হামলা,‘জয়...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কনটেইনারে পণ্য নেই, কাগজে সাড়ে...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
থার্ড টার্মিনাল চালু হচ্ছে ১৬...
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact