| শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে মেগা মাস্টারপ্ল্যান। ২০২৬ সালের মধ্যেই এ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগ, পরিবেশ ও নাগরিক সেবায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শৈবাল ও লাবণী বিচ এলাকাকে ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে ইকো-রিসোর্ট, হোটেল ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, পানি শোধনাগার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও পর্যটন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে একসঙ্গে ঝিনুক-কোরাল চাষ
যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিমানবন্দর ও রানওয়ে সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ এবং মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগকে। প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারে দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, পরিবেশের ভারসাম্য, পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধাকে সমন্বয় করেই মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যটন ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
তবে স্থানীয় ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা চান, উন্নয়নের সুফল যেন স্থানীয় জনগণও পান। আর পরিবেশবাদীদের দাবি, উন্নয়নের নামে সৈকত ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করা যাবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।