ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার ও উড়োজাহাজ অবতরণের ফি বাবদ ২৭টি বিদেশি এয়ারলাইনসের কাছে প্রায় ১১৪ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। এর মধ্যে ১৮টি এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৬৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে ডেইলি স্টার জানায়, ১৯৮৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব বকেয়া জমেছে। নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে পাওনা রয়েছে ৪২ কোটি টাকা। এগুলো হলো ভারতের স্পাইসজেট ও অ্যালায়েন্স এয়ার এবং তুর্কমেনিস্তান এয়ারলাইনস। এ ছাড়া কার্যক্রম স্থগিত করা বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়া ছয়টি এয়ারলাইনসের কাছে পাওনা ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
চালু এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে স্পাইসজেটের কাছে পাওনা সবচেয়ে বেশি, ৩৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া এয়ার ডেকানের কাছে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ এবং আলিতালিয়া এয়ারলাইনসের কাছে ১২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানান, উড়োজাহাজের আকার ও ওজন অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪৫০ ডলার ফি দিতে হয়। বিল পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
বেবিচকের সদস্য (অর্থ) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, বকেয়া আদায়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো এয়ারলাইনস দেউলিয়া হয়ে গেলে পাওনা আদায় কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো আইনি পদক্ষেপের খরচও পাওনার চেয়ে বেশি হতে পারে।
বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান বলেন, স্বয়ংক্রিয় বিল তৈরি ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া জমেছে। তার মতে, নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ এবং স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আদায় বাড়ানো সম্ভব।
এদিকে বকেয়া থাকলেও আকাশসীমা ব্যবহারের ফি থেকে বেবিচকের আয় বাড়ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৫০২ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
বেবিচকের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারিতে নতুন রাডার চালুর পর আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বেড়েছে। এতে উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য নথিভুক্ত করা এবং ফি আদায়ের ক্ষেত্রে আয় বাদ পড়ার ঝুঁকি কমেছে।