|

Advertise with us

৪ শর্তে আটকে গেছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

৪ শর্তে আটকে গেছে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তি

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে রাজস্ব ভাগাভাগিসহ চারটি বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের নতুন শর্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। চারটি শর্তে মতবিরোধের কারণে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চূড়ান্ত চুক্তি আটকে আছে। বিষয়গুলো সমাধানে এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে চারটি নতুন শর্ত এসেছে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে নেওয়া হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর থার্ড টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, তৃতীয় টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হবে। তবে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে। পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে উঠে আসা চারটি শর্তে একমত হতে পারেনি কোনো পক্ষ। বেবিচক এসব শর্ত মেনে নিতে অপারগতার কথা জানিয়ে চলতি সপ্তাহে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। এখন অপেক্ষা সরকারের সিদ্ধান্তের। এরপরই চুক্তি চূড়ান্ত করার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায় বেবিচক।

রাজস্বের অংশ কমানোর প্রস্তাব
থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ কত হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, রাজস্বের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা। কিন্তু অপারেশনাল প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ের আট মাসের জন্য সাড়ে ১৩ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম।

এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে ওই আট মাসে সরকারের রাজস্ব আয় পূর্বনির্ধারিত হারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তবে এই সময়ে মোট কত রাজস্ব আদায় হতে পারে এবং প্রস্তাবিত হারে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হবে, তা নির্ধারণে বিস্তারিত হিসাব প্রয়োজন।

টার্মিনাল পরিচালনার মতো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে রাজস্ব ভাগাভাগির শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাময়িক সময়ের জন্য রাজস্বের অংশ কমানোর প্রস্তাব গ্রহণের আগে এর আর্থিক প্রভাব ও যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করে বেবিচক।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায় বিমানের
চুক্তির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম নিয়ে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের শর্ত অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনার আংশিক দায়িত্ব বিদেশি অংশীদারদের হাতে গেলেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সার্বিক দায়দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহন করতে হবে বিমানকে। একই সঙ্গে এই কার্যক্রম থেকে বিমানের আয়ের অংশ পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।

এই শর্তের ফলে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়ভার আলাদা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও কার্যক্রমের ঝুঁকি বহনের প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিমানের আর্থিক দায়, সম্ভাব্য ক্ষতি এবং আয় বণ্টনের বিষয়গুলো কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

দেশের আইনের প্রয়োগ নিয়ে মতবিরোধ
তৃতীয় বিরোধটি দেশের প্রচলিত আইন ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে। জাপানি পক্ষ বিশেষ আইনি সুবিধা, দায়মুক্তি বা ছাড় চেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাদের অবস্থান, বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো সাধারণ আইন প্রণয়ন কিংবা বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করলে তা যেন তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা না হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান হলো, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাধারণ কোনো আইন প্রণয়ন করলে কিংবা বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দেশের প্রচলিত আইন ও সাধারণ আইনি পরিবর্তনের বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে একমত নয় বাংলাদেশ।

ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা নিয়েও বিরোধ
চতুর্থ বিরোধটি থার্ড টার্মিনালের নির্মাণগত বা অন্যান্য ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের দায়সংক্রান্ত সময়সীমা নিয়ে। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি) নামে পরিচিত এই সময়সীমা বাংলাদেশ ৯ মাস নির্ধারণ করতে চায়। তবে জাপানি পক্ষ তা বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আগে যন্ত্রাংশের দায়দায়িত্বের সময়সীমা ছয় মাস রাখার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও এখন তা ১২ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি উঠেছে। ফলে ত্রুটি শনাক্তকরণ, সংশোধন, যন্ত্রাংশের দায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় কে বহন করবে—এসব বিষয়েও স্পষ্ট সমঝোতা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ মত
তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দেশের স্বার্থে চুক্তির আর্থিক বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। শুরু থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা না রাখায় দর-কষাকষিতে বেবিচক দুর্বল অবস্থানে পড়েছে। ফলে বিদেশি পক্ষ একের পর এক নতুন শর্ত দিচ্ছে। এসব শর্ত মেনে নিলে ভবিষ্যতেও নতুন দাবি আসতে পারে। তাই চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি শর্ত যাচাই ও বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। সৌজন্যে আজকের পত্রিকা

Advertise with us

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Advertise with us
ইউরোপ থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আসামি ধরে ফেরার পথে গাড়িচাপায়...
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৪ শর্তে আটকে গেছে শাহজালালের...
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামে রেলওয়ের জমির বন উজাড়,...
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
ফের দাম্মাম ও রিয়াদে বিমানের...
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আরও
Advertise with us

ফলো করুন Passenger Voice-এর খবর

Editor and Publisher
SAMSUDDIN CHOWDHURY
Dhaka Office
  • 26 Delwar Complex, Tikatuli, Wari, Bangladesh.
Chittagong Office
  • 35 Kadam Mobarak By-Lane, Jashim Bhaban (4th Floor), Momin Road, Chittagong.
Contact