শিরোনাম
Passenger Voice | ০৬:০৪ এএম, ২০২১-০৭-০১
জামানতের ভুয়া পে-অর্ডার জমা দিয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সেতুর টোল আদায়ের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কাজের মেয়াদ শেষে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই পে-অর্ডার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় ক্যাশ করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
জানা যায়, ২০১৯ সালে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় গড়াই নদীর ওপর নির্মিত মীর মশাররফ হোসেন (সেতু সৈয়দ মাসুদ রুমি) টোল আদায়ের দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কাজ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দরপত্র অনুযায়ী প্রতি বছর তিন মাস অন্তর অন্তর ৪ কিস্তিতে টোলের টাকা পরিশোধ করার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। এক্ষেত্রে দুই কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ সড়ক ও জনপথ বিভাগে জামানত হিসেবে রাখা বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার প্রায় আড়াই কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুষ্টিয়া অফিসে জমা দেন।
দুই কিস্তির সমপরিমাণ টাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগে আগেই জামানত হিসেবে জমা রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে কারণে কাজের মেয়াদ শেষে টোলের টাকার শেষ দুটি কিস্তি জমা দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সোমবার (২৮ জুন) সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ পে-অর্ডার দুটো সাউথইস্ট ব্যাংকে ভাঙাতে গিয়ে জানতে পারে এগুলো জাল। এ ঘটনায় এখন একে অপরকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হালিমুজ্জামান জানান, কাজের অর্ডার পাওয়ার পর জামানতের জন্য দুটিসহ মোট ছয়টি পে-অর্ডার সড়ক ও জনপথ বিভাগে জমা দিয়েছিলাম। সড়ক ও জনপথের তৎকালীন কর্মকর্তারা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে সেটা যাচাই বাছাই করে নেন। পরে সড়ক জনপথ বিভাগ জামানতের দুটি পে-অর্ডার ছাড়া বাকি চারটি পে-অর্ডার ভাঙিয়ে ক্যাশ করেও নেন। এখন তিন বছরের মাথায় এসে কি করে সেই পে অর্ডার জাল হয়ে গেল সেটা মাথায় ঢুকছে না।
তিনি আরও বলেন, সাউথইস্ট ব্যাংকের তৎকালীন ম্যানেজার জাকির হোসেন কারসাজি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমার ধারণা।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার পে-অর্ডার দুটি ব্যাংকে ক্যাশ করতে গিয়ে ধরা পড়ে এ দুটি আসল নয় জাল। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত মামলা করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা এর দায় এড়াতে পারে না। সে কারণে তাদের এই মামলায় পক্ষভুক্ত করা হবে।
সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার বর্তমান ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যে সময়ের ঘটনা তখন জাকির হোসেন নামে একজন ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
প্রসঙ্গত, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে একই সেতুর টোল আদায়ের কাজে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন এই প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সুগার মিলে একটি ঠিকাদারি কাজে একইভাবে ভুয়া পে-অর্ডার দিয়েছিল তারা। সেটা ধরা পড়ার পর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সে সময় মামলা হয়। এত অভিযোগের পরও এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বার বার কিভাবে কাজ পায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত