শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:৩৩ পিএম, ২০২১-০৬-১৭
করোনা মোকাবিলায় রাজশাহী মহানগরে গত ১১ জুন থেকে শুরু হয় প্রথম দফার সর্বাত্মক ‘লকডাউন’। এতে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রেল কর্তৃপক্ষ ১৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে যাত্রীদের অগ্রিম টিকিট কেনার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু এখনও সেই টাকা ফেরত পাচ্ছেন না যাত্রীরা। ফলে প্রতিদিন স্টেশনে গিয়ে ধরনা দিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে আসছেন তারা।
অগ্রিম টিকিট কেনা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লকডাউনের ফলে ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট কাটা যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা টাকা ফেরতের জন্য পরদিনই স্টেশনে ভিড় জমান। কিন্তু টাকা ফেরত পাননি। স্টেশন থেকে বলা হয় ১৩ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্টেশনে এসে টিকিট দেখালেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে টাকা নেই।
আর ঠিক কবে টাকা ফেরত দেবে নিশ্চিত করে বলছে না পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতিদিন স্টেশনে গিয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।
তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ৬ হাজারের বেশি যাত্রী টাকা পাবেন। অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে টাকা ফেরত দিতে দেরি হচ্ছে। যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য হিসাব উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তার দপ্তরকে চিঠি দিয়ে টাকা অবমুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ওই দপ্তর অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত দেয়নি। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় স্টেশনের কোষাগারে এখন কোনো টাকা নেই।
রাজশাহী স্টেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্রেনের চলতি ও অগ্রিম টিকিট বিক্রির টাকা স্টেশন মাস্টারের তত্ত্বাবধানে রেলওয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়। ১১ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এ টাকা পশ্চিম রেলওয়ের হিসাব উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারি রাজস্ব আয় ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে।
সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় রাজশাহীর সব ট্রেন যাত্রা বাতিলের পর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরতের জন্য প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে (সিসিএম) জানিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি এই এক সপ্তাহেও। সরকারি তহবিলে জমা হওয়া এসব টাকা এখন ফেরত দিতে হলে একটা নির্দিষ্ট ব্যয়ের খাত দেখিয়ে বরাদ্দ করতে হবে। যেটা এখনও করা সম্ভব হয়নি।
মহানগরের ভদ্রা এলাকার আমির হামজা ১২ জুন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার অগ্রিম টিকেট করেন। পরদিন থেকে টিকিটের টাকা ফেরতের জন্য আসছেন স্টেশনে। কিন্তু প্রতিদিন ফিরে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, স্টেশন থেকে বলা হয়েছিল ১৩ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্টেশনে এসে টিকিট দেখালেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এরপর থেকে প্রতিদিন স্টেশনে এসেছি। স্টেশন থেকে বলা হচ্ছে টাকা নেই। কবে ফেরত পাবো নির্দিষ্ট তারিখ বলছে না রেল কর্তৃপক্ষ। এখন বলছে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে টাকা দেওয়া হবে।
আরেক যাত্রী শামসুল আলম বলেন, ১৩ জুনের বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কেটেছিলাম। এখনো কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত আনতে পারেনি। প্রতিদিন প্রচুর যাত্রী টাকা ফেরত নিতে আসছেন। রেল কর্তৃপক্ষ এখন বলছে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।
জানতে চাইলে রাজশাহী রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, রাজশাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বর্তমানে স্টেশনের ক্যাশে কোনো টাকা নেই। আগের টিকিট বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে টাকা ফেরত দিতে দেরি হচ্ছে। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
টিএএন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত