শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৫৯ এএম, ২০২১-০৬-০৫
রেলওয়ের কর্মচারীরা জড়িয়ে পড়ছে গুরুতর অপরাধে। গত এক মাসে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। যারা রেলের কর্মচারী হয়েও রেল সম্পদ লুটে জড়িত থাকার অপরাধে সাময়িক বরখাস্তও হয়েছেন। পাহাড়তলী ঘিরেই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আছেন এমন লুটেরা শ্রেণির একটি চক্র। যাদের টার্গেটে থাকে সেইল ডিপোসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনা। প্রতিনিয়ত এসব স্থাপনা থেকে মালামাল চুরির সাথে জড়িত চক্রটি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি অভিযানে এমন চোর চক্রের সাথে জড়িত রেলওয়ের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর জড়িত থাকার তথ্যও মিলেছে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সত্যজিৎ দাশ বলেন, ‘রেলওয়ে সম্পদ তছরুপ ও চুরি রোধে আরএনবি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রতিটি এলাকায় কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। যে কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন অপরাধী আরএনবির হাতে ধরা পড়েছে। এরমধ্যে কয়েকজন রেল কর্মচারীও আছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার পাশাপাশি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে’।
জানা যায়, গত ৩১ মে রেলওয়ের সংস্থাপন শাখার উপ-পরিচালক শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ডেন্ট জহিরুল ইসলামকে পশ্চিমাঞ্চলে এবং পশ্চিমাঞ্চলের মো. আশাবুল ইসলামকে পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়। এ বদলির পর রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। যারই অংশ হিসেবে গত চারদিনে তিনটি অভিযানে মাদক, চোরাই তেল ও বৈদ্যুতিক তারসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে আরএনবি।
গত ৮ মে রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পূর্বাঞ্চল রেলের পাহাড়তলী অর্থ হিসাব শাখার জুনিয়র হিসাব কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে আরএনবি। ইএফটির আওতায় রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে পাহাড়তলী হিসাব শাখার ডেপুটি ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার মো. শাহজাহান লিখিত অভিযোগ দিলে তাকে আটক করা হয়। পরে রেলওয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায়। গত ২৫ মে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ফয়সালের বিরুদ্ধে ৭২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮২৮ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায় কমিটি। খবর: পূর্বদেশ
গত ১ জুন কদমতলী ডিটি রোড এলাকায় দোকানে বিক্রিকালে চোরাই তেলসহ মাহাবুবুল আলম (৫৫) নামে রেলওয়ের এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে আরএনবি। এসময় তার কাছ থেকে ৫০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাহবুব রেলওয়ে সংকেত বিভাগের মেকানিক পদে কর্মরত আছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে আরএনবির সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে রেলওয়ে সম্পত্তি আইন ২০১৬ এর ০৪নং ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এই তেল চোরাই চক্রের সাথে যুক্ত। রেলওয়ের আরো কয়েকজন কর্মচারী জড়িত থাকার কথাও জানায় এই ব্যক্তি।
একইদিনে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পাহাড়তলী রেলওয়ে ওভার ব্রিজ এলাকা থেকে রেলওয়ে বৈদ্যুতিক তারসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক আরো দুইজনকে বৈদ্যুতিক তারসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন মো. নুরুল আজিম মজুমদার (২৪), এরশাদ আলী (২৯), রাজিব সরকার (২৬)। এরা প্রত্যেকেই পাহাড়তলী রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী চোরচক্র ধরতে তৎপরতা চালালেও এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ আছে। গত বছর ২৭জুন পাহাড়তলী সেল ডিপোতে মালামাল চুরির সময় চার চোরকে হাতেনাতে আটক করে আরএনবি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় সেল ডিপুর দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী (স্টোর) মো. ইউনুচের সহায়তায় অবৈধভাবে রেলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো পাচার করছিল চক্রটি। হাতেনাতে আটককৃত চার চোরের মধ্যে একজন ভ্যানচালককে ছেড়ে দেয় আরএনবির পরিদর্শক ইসরাফিল মৃধা। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে আরএনবি পরিদর্শক ইসরাফিল মৃধাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে আরএনবি। কিন্তু সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি শুরু করে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক। আরএনবির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হলেও ব্যবস্থা নেয়া না নেয়া নিয়ে তোলপাড় হয়।
রেলওয়ের অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে পাহাড়তলী। এই এলাকায় থাকায় রেলওয়ে নানা স্থাপনা ঘিরেই অপরাধ চক্র সক্রিয়। তেল চুরি, বৈদ্যুতিক তার চুরি, রেলবিট চুরিসহ ছোটবড় নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে রেল কর্মচারীরা। সেখানকার অপরাধী চক্রটির প্রধান টার্গেট হিসেবেই আছে সেইল ডিপো। এই ডিপোতে প্রায় ৮০ ক্যাটাগরির সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে। এরমধ্যে অকেজো ও পরিত্যক্ত ইঞ্জিন, লোকোমোটিভের টাকা, স্প্রিং, বগি, লোহা, সিলভার, তামা, স্টিল, এমএস শিপপ্লেট, এমএস স্ক্র্যাপ, বাফার হ্যালিকল স্প্রিং, স্টিল স্প্রিং, কপার স্ক্র্যাপ, অ্যালুমিনিয়াম স্ক্র্যাপ ও পুরনো বাল্বের মতো সরঞ্জাম আছে। এই ডিপোতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা না থাকলেও রেল কর্মচারীরা এসব সরঞ্জাম লুটের লোভ সামলাতে পারে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত