অক্টোবরের আগে হচ্ছে না বিআরটিএর চেয়ারম্যান'র পদোন্নতি

Passenger Voice    |    ০৮:১৩ এএম, ২০২১-০৫-৩১


অক্টোবরের আগে হচ্ছে না বিআরটিএর চেয়ারম্যান'র পদোন্নতি

সামসুদ্দীন চৌধুরীঃ সপ্তাহ জোরে হটাৎ আলোচনা বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার এর পদোন্নতির বিষয়টি। বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তাদের মাঝে এই নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।  তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিবদের পদোন্নতি আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর আগে হচ্ছে না। 

এদিকে সময় প্রমার্জন দিয়ে ১১তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিবদের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রাথমিক আভাস মিলেছে। তবে এ প্রস্তাবের নানান যৌক্তিকতা নিয়ে এসএসবির বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে এমনটিই জানিয়েছে। 

সূত্র বলছে, ১১তম ব্যাচকে সময় প্রমার্জন দিয়ে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে ব্যাচের নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তাদের অনেকে বেশ কিছুদিন থেকে চেষ্টা-তদবির করে আসছেন। বিশেষ করে সরকারের গুডবুকে থাকা এ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের ক্ষেত্রে যেন সচিব করার শর্ত হিসেবে চাকরির মেয়াদ ২ বছর থাকার অলিখিত নিয়ম প্রয়োগ করা না হয়, এমন চাপও প্রবল রয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলও চান, বিশ্বস্ত ও অধিকতর যোগ্য কর্মকর্তাদের সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ ২ বছর থাকার শর্ত আরোপ করা সমীচীন হবে না। দরকার হলে সময় প্রমার্জন দিয়ে তাদের সচিব পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে সরকারের আস্থাভাজন ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে ১০ম ব্যাচের যেসব কর্মকর্তা এখনো সচিব হতে পারেননি, তাদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। এজন্য ১১তম ব্যাচকে এখনই সচিব করার ঘোরবিরোধী ১০ম ব্যাচের অনেকে। ১১তম ব্যাচকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উধ্বতন নিয়োগ-১ অধিশাখার ০৫.০০.০০০০.১৩০.১২.০০২.১৯-৬৪২ নং স্বারকমূলে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর। ওই ব্যাচের ১২৬ জন ফিট কর্মকর্তার মধ্যে পদোন্নতি পান ৯৬ জন। নিয়মিত ব্যাচসহ সে সময় মোট ১৫৭ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

সেই তালিকার ২ নং সিরিয়ালে ছিলেন ড. মো. কামরুল আহসান । তিনিও বিআরটিএর চেয়ারম্যান ছিলেন। বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব চালিয়ে আসা কামরুল আহসান গতবছরের ২৯ মার্চ অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গেছেন। একই তালিকায় পদোন্নতি পাওয়া সংস্থাটির তৎসময়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ইউছুব আলী মোল্লা চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই বছরের ২২ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে।

পদোন্নতি বিধিমালা অনুযায়ী বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারকে সচিব পদে পদোন্নতি পেতে হলে অতিরিক্ত সচিব পদে ২ বছর কর্মরত থাকতে হবে। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবরের আগে তিনি সচিব পদোন্নতি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। 

এছাড়া বিদ্যমান অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী চাকরির মেয়াদ থাকতে হবে আরও ২ বছর। এ হিসাবে ১১তম ব্যাচ সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করবে আগামী ২৩ অক্টোবর। তাই এ ব্যাচ থেকে এখন সচিব পদে পদোন্নতি দিতে হলে বাকি ৪ মাস সময় প্রমার্জন করতে হবে। অতীতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত সচিব পদে নিয়োগ দিয়ে ৬ মাস সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে ডিসি ফিটলিস্টের মতো এসএসবির বৈঠকে সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ সংবলিত ফিটলিস্ট তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে ওই তালিকা থেকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে ডিসি ফিটলিস্টের মতো তালিকায় থাকলেও যেমন সবাইকে ডিসি করা হয় না, তেমনি সচিবের ফিটলিস্ট তালিকা থেকে সরকার যাকে দায়িত্ব দিতে চান তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে পদায়ন করা হয়। তবে এই ক্ষেত্রে নুর মোহাম্মদ মজুমদার সরকারের গুডবুকে রয়েছেন বলে সূত্র বলছে। 

এদিকে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার এর পদোন্নতি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিআরটিএর বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তাগণ তাদের বদলি ও পছন্দের সার্কেলে বদলির জন্য তোড়ঝোপ শুরু করেছেন। এদিকে বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক পদে বদলীর জন্য বিভিন্ন তদবির চালাচ্ছেন, বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলে সংযুক্ত থাকা লাইসেন্স শাখার সহকারী পরিচালক শামসুল কবির একই সার্কেলের ভারমুক্ত দায়িত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে তার ছোট ভাই ময়মনসিংহ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সাইফুল কবিরকে ঢাকা মেট্রো সার্কেলে বদলী করাতে জোর তদবির করছেন তিনি। নরসিংদী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক জিয়াউর রহমান ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এর লাইসেন্স শাখায় পুনরায় বদলী হতে চান। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিআরটিএর সব সার্কেলের তিন বছরের অধিক সময় কর্মরত কর্মকর্তাদেরও বদলী ও পদায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। 

এদিকে ১১ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিবদের পদোন্নতির প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা সিনিয়র স্যারদের অভিযোগ ও আবেগের সঙ্গে হয়তো অনেক ক্ষেত্রে একমত পোষণ করব। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় এর চেয়ে ভালো আর কী করা সম্ভব ছিল। মূলত সমস্যা হলো- উপরের দিকে থাকা ৮২, ৮৪, ৮৫ ও ৮৬ ব্যাচের মতো বড় ব্যাচগুলোর কারণে নিচের দিকে বহুদিন থেকে চিঁড়েচ্যাপটা অবস্থা বিরাজ করছে। যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নিই, সচিব হওয়ার মতো অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা এখনো রয়ে গেছেন; কিন্তু তাদের প্রত্যেককে সচিব করতে হলে প্রশাসনে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হবে। প্রশাসন পিরামিড ঠিক রাখতে হলে প্রতিটি ব্যাচকে যথাসময়ে উপরে তুলে আনতে হবে।’