রেলের অর্থ লোপাটের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি

Passenger Voice    |    ১২:২৬ পিএম, ২০২১-০৫-২৬


রেলের অর্থ লোপাটের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি

ভুয়া আইডি খুলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতার ফান্ড থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ায় ১৫ দিন পরও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি কেউ। তবে শিগগির এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ফান্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকা সরিয়ে নেয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব বিভাগের জুনিয়র হিসাব কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ। গত ৮ মে ঘটনা জানাজানি হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নগরীর খুলশী থানায় দায়ের করা হয়েছে মামলা। সরিয়ে নেওয়া টাকার পরিমান, সহযোগী ও অন্যান্য বিষয়ে তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেন প্রধান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা (এফঅ্যান্ডসিও) কামরুন্নাহার। তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু গতকাল পর্যন্ত রিপোর্ট দিতে পারেনি কমিটি।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ (অর্থ) ফারজানা উম্মে খানম। সদস্য ডিএফএ (বুকস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) আব্দুল আওয়াল। এছাড়া কমিটির দুই সদস্যকে কারিগরি সহায়তা দিতে কাজ করছেন টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার আব্দুল আল আসিফ। কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই হিসাবে ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা। এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান অর্থ উপদেষ্টা কামরুন্নাহারের মোবাইলে গত এক সপ্তাহে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি। গতকাল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে তার দপ্তরে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান ফারজানা উম্মে খানমের দপ্তরে গেলে সেখানে চারজনকে কাজ করতে দেখা যায়। তদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা জানান তিনি। দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘খুব শিগগির আপনারা জানতে পারবেন।’ তার পাশে বসা আরেকজন বলে ওঠেন-স্বচ্ছতার জন্য কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে কমিটির প্রধান সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেননি। খবর: আমাদের সময়

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেনও সঠিক কোন তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি এখনো রিপোর্ট দেয়নি। দিয়ে দিবে হয়তো। আমাকে তদন্ত প্রতিবেদনের একটি কপি দেওয়ার কথা। এদিকে ওই ঘটনার পর ঈদের আগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এপ্রিল মাসের বেতন পায়নি। গত রবিবার থেকে বেতন ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এখনো অন্তত ৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন পায়নি। জানতে চাইলে জিএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অর্থ বিভাগে আমি খবর নিয়েছি। সবার বেতন দেওয়া হয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে। হয়তো সবার হিসাবে যোগ হয়নি।

জানা গেছে, বিগত ছয় মাস ধরে ধাপে ধাপে টাকা সরানো হচ্ছিল। গত ৮ মে রেলের এক কর্মকর্তার হিসাবে ঈদ বোনাস দুইবার জমা হলে তিনি বিষয়টি বিভাগীয় হিসাব কর্মকর্তার নজরে আনেন। এরপর দিনভর তদন্ত করে ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে ওইদিন রাতেই ফয়সালকে আটক রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন রবিবার নগরীর খুলশী থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

সূত্র জানায়, ফয়সালের সাথে একটি চক্র রয়েছে। যারা এসব অপকর্মে তাকে সহায়তা ও সাহস জুগিয়েছে। সেখানে উঠতি কিছু শ্রমিক নেতাও রয়েছে। বড় ঝামেলা হলে তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রক্ষার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরে চলতি রেল থেকে স্টেশনের টিকেট বিক্রির টাকা চুরি, মালামাল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে ধরা পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে রেলওয়ে।

ফলে দিনদিন অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। চাকরির বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি মামলার মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।