৪৯ দিন পর ট্রেনে চড়লো ১২শ যাত্রী

Passenger Voice    |    ০১:৫৭ পিএম, ২০২১-০৫-২৫


৪৯ দিন পর ট্রেনে চড়লো ১২শ যাত্রী

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ ৪৯ দিন বন্ধ ছিল যাত্রীবাহী ট্রেন। গতকাল সোমবার থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। প্রথমদিনে ছয়টি ট্রেন চট্টগ্রাম রেল স্টেশন ছেড়েছে। এসব ট্রেনে ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে ছাড়া হলেও বিক্রি হয়েছে কম। ছয় ট্রেনে বরাদ্দকৃত এক হাজার ৯৪৮ টিকিটের মধ্যে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২শ’ টিকিট। প্রথমদিন টিকিট বিক্রির সময় না পাওয়ায় কম টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যাত্রী কম হলেও নির্দিষ্ট কোচ নিয়েই চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়েছে ট্রেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘পূর্বাঞ্চল রেলে ১৩টি আন্তঃনগর ও চারটি মেইল ট্রেন চালানো হচ্ছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সাতটি আন্তঃনগর ও দুটি মেইল ট্রেন চলছে। সবগুলো ট্রেনে আগের মতো কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। অনলাইনে বিক্রিত ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়েই ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সব ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। পূর্বাঞ্চলে নয় জোড়া ট্রেনের মধ্যে সুবর্ণ ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় চলাচল করেনি। বাকি ট্রেনগুলো স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে বরাদ্দকৃত টিকিটের মধ্যে অধিকাংশই অবিক্রিত ছিল।’ জানা যায়, গতকাল সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি। এ ট্রেনের ধারণক্ষমতা ৬৬০ জন। ৫০ শতাংশ হিসেবে ৩৩০টি টিকিট অনলাইনে ছাড়া হলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭২টি। ৭টা ৪০ মিনিটে মেইল ট্রেন সাগরিকা এক্সপ্রেস চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ ট্রেনের ধারণক্ষমতা ৪৪০ জন। অনলাইনে বরাদ্দকৃত ২২০ টিকিটের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১০৭টি। সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনটি। এ ট্রেনের ৫০০ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও অনলাইনে ছাড়া ২৫০ টিকিটের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১২৬টি। বিকাল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে মহানগর গোধুলী। এ ট্রেনে ৬৭০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতা আছে। এরমধ্যে অনলাইনে ছাড়া ৩৩৬ টিকিটের মধ্যে যাত্রী ছিল ২৮৪ জন। বিকাল সোয়া ৫টায় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া মেঘনা এক্সপ্রেসের ধারণক্ষমতা ছিল ৯৩০ জন। অনলাইনে এ ট্রেনের ৪৬৫ টিকিট ছাড়া হলেও বিক্রি হয়েছে ৩৬৪টি। একইভাবে রাত ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ত‚র্ণা নিশিথায় ৬৯০ যাত্রীর ধারণক্ষমতা থাকলেও অনলাইনে বরাদ্দ দেয়া ৩৪৬ টিকিটের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৩ শতাধিক টিকিট। সবমিলিয়ে ছয় ট্রেনে ১ হাজার ৯৪৮ টিকিট বিক্রির জন্য অনলাইনে ছাড়া হলেও প্রায় ১২’শ টিকিট বিক্রি হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘ছয়টি ট্রেনেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে কাউন্টারে কোন টিকিট বিক্রি করা হয়নি। অনলাইনে ৫০ শতাংশ টিকিট ছাড়া হয়েছে। প্রথমদিন হওয়ায় এরমধ্যেও অনেক টিকিট অবিক্রিত ছিল। যে কারণে স্টেশনে যাত্রী ভিড় ছিল না। আমরাও যাত্রীরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে ব্যবস্থাই করেছি।’

গতকাল সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকদিন পর ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় নিস্তব্ধ স্টেশন যেন আবারো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যদিও স্টেশনের কাউন্টারগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছাড়াও যাত্রীদের আনাগোনা ছিল, তবে ভিড় ছিল না মোটেই। ট্রেন ছাড়ার আগেই অল্পসংখ্যক যাত্রী প্লাটফর্মের দিকে প্রবেশ করেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা ছিল কম। দুই সিটে একজন করে যাত্রী বসানো হলেও ট্রেনের অধিকাংশ সিট ফাঁকা ছিল। তবে যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা ছিল লক্ষ্যনীয়।

চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে ছয়টি ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। যাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ট্রেনে উঠেছে। আমরা বারবারই যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা দিয়েছি। এখন আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারবো। কিন্তু যার যার সুরক্ষা নিজেকেই নিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল থেকে করোনা মহামারির প্রকোপ বাড়ায় সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। দীর্ঘ ৪৯ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

সূত্র: পূর্বদেশ