ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ

Passenger Voice    |    ০১:৪৮ পিএম, ২০১৯-১২-২৮


ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ

দক্ষ চালকের চাহিদা দেশে যেমন, একইভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। সুতরাং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানসম্মত চালকের পেশাদারিত্বে আরও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নতুন একটি কর্মপ্রকল্প একনেকে অনুমোদন দিয়েছে। লক্ষাধিক তরুণকে গাড়ি চালনায় পারদর্শী করতে সরকার এক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করবে ২৬৭ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অনুমোদনকৃত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি প্রশিক্ষণ ব্যুরো। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাসকৃত এই মহৎ পরিকল্পনাটি দেশে-বিদেশে দক্ষ চালকের কর্মসংস্থান সহজলভ্য করতে বিশেষ উদ্যোগীর ভূমিকায় থাকবে।

পরিকল্পনামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী দেশের ৬৪টি জেলায় বিদ্যমান বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এমন গুরুদায়িত্ব পালন করবে। উদ্যোগী তরুণদের চালকের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সুদক্ষ মোটর ম্যাকানিক্স হিসেবেও তৈরি করা হবে। সবটাই হবে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়বদ্ধতায়। রাস্তার মাঝখানে যাত্রী পরিবহন ক্ষুদ্র ও বৃহদাকার যানগুলোর যন্ত্র বিকল হওয়ার ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। একজন চালককে সে বিষয়েও পারদর্শী হওয়া জরুরী। যাতে তাৎক্ষণিক কর্মযোগে বিপন্ন গাড়িটি নতুন করে তার যাত্রাপথ শুরু করতে পারে। লক্ষাধিক তরুণকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ ছাড়াও প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ভাতাও দেয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে এই মুহূর্তে সৌদি আরবেই এক লখ সুদক্ষ চালকের প্রয়োজন। আর এই চাহিদা শুধু সৌদিতেই নয়, সারা বিশ্বের দক্ষ চালকের গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। সঙ্গত কারণে নতুন দক্ষ চালক তৈরিতে উন্নতমানের আন্তর্জাতিক সীমানাকে মাথায় রেখেই প্রশিক্ষণকে সে মাত্রায় পারদর্শিতায় পূর্ণ করতে হবে।

আর এই সম্ভাবনাময় প্রকল্পের আওতায় দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়াও দক্ষতার মাপকাঠিতে আধুনিক সময়ের চালক তৈরিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। আর এই কর্মপ্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অগ্রসরমান অর্থনীতিতে। এই প্রশিক্ষণের নিমিত্তে প্রয়োজন পড়বে ১২৮টি ডাবল কেবিন পিকআপ, আটটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাস। এ ছাড়া লাগবে ১৯২টি প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি, সাত ধরনের ২১টি অফিস যন্ত্রপাতি। প্রশিক্ষক থাকবেন হাতে-কলমে ১২৮ জন, তাত্ত্বিকভাবে ৬৪ জন ও দক্ষ কর্মী হিসেবে প্রশিক্ষিণ পরিচালনা করবেন আরও ৬৪ জন। ৬১ জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২০২৪ সাল অবধি এর কর্মবিধি অব্যাহত থাকবে। দক্ষ ও উপযুক্ত প্রশিক্ষিত চালক তৈরি হলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, ফলে দেশের অর্থনীতির চাকাও হবে আরও গতিশীল।

আমাদের দেশের কোন চালক যদি সৌদিতে চাকরি পায় তা হলে তার মাসিক বেতন হবে ১ হাজার ৩৫০ রিয়াল যার বাংলাদেশের মুদ্রায় আসবে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রশিক্ষিত চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে কোন অর্থমূল্য কিংবা আনুষঙ্গিক ছাড়পত্রেরও প্রয়োজন হবে না। এ সবই প্রশিক্ষণ নেয়ার ইতিবাচক দিকনির্দেশনা।
তীব্র যানজটে বেহাল অবস্থায় রাজধানী ঢাকার সড়কে অনুমোদন পায় মাত্র ২ লাখ ১৬ হাজার যান হলেও ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারি পরিবহন মিলিয়ে গাড়ি চলে প্রায় ১৫ লাখের মতো, যার অবধারিত পরিণতি অনাকাক্সিক্ষত পথ-দুর্ঘটনা, মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ এবং অদক্ষ, অপরিণামদর্শী চালকসহ যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন যা প্রতিদিনের নগরবাসীর শ্রম ঘণ্টা নষ্ট করারও বিপন্ন পরিস্থিতি। ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকার এমন সড়ক ব্যবস্থায় প্রতিনিয়তই হুমকির মুখে পড়ে জান-মালের নিরাপত্তা এবং সুস্থির পরিবেশবান্ধব অবস্থার চরম সঙ্কট। সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা দৃশ্যমান হয় অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতি।

লাইসেন্সবিহীন চালকের উন্মত্ততায় পথ-দুর্ঘটনার হার যে মাত্রায় বৃদ্ধি পায় সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের অবস্থা সঙ্গত কারণে অনেক বেশি গতি নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী হবে। এই বৃহৎ ও মহৎ কর্ম প্রকল্প যাতে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।