শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:২৪ পিএম, ২০২১-০৪-২৭
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ করোনায় এই দফা কঠোর লকডাউন শেষে আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে বলে গত ২৪ এপ্রিল শনিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। একই সময় থেকে গণপরিবহন চালু করা নিয়ে সরকারের ভেতর আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ক্ষেত্রে ২৯ এপ্রিল থেকে ট্রেন চলবে ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তার কাছে নির্দেশনা পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশিষ দাশ গুপ্ত। তিনি বলেন, ট্রেন চালানো ব্যাপারে গতকাল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর থেকে পরিবহন বিভাগকে একটি কন্টোল অর্ডারের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে জানানো হয়েছে। আমরা স্ব স্ব জায়গা থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পূর্বাঞ্চলের সব কয়টি রেল স্টেশনে দিনে কয়েকবার জীবাণুনাশক স্প্রে করা হবে, রেলওয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সকল যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এবং স্টেশন এলাকায় সকলের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হবে। করোনার এই মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রতিটি ট্রেনের সংশ্লিষ্ট অ্যাটেনটেন্ড ও টিকেট চেকার তদারক করবে। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলেই ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারবো।
এ বিষয়ে পূর্বাঞ্চল রেলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন বলেন, রেল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে আমরা যে কোন সময় থেকে ট্রেন পরিচালনা করতে প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি ট্রেনের ইঞ্জিন গুলো ট্রায়াল দেয়া হয়েছে, ট্রেনের ওয়াগনগুলো কোন সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে। এবং বগিগুলো ধুয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। রেল যোগাযোগ শুরু হওয়ার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণই সরকারি প্রজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকে দেশের সকল রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, ২০২০ সালের করোনাকালিন লকডাউনে দুই মাসের বেশি বন্ধ ছিল সকল যাত্রীবাহী ট্রেন। একই বছরের ৩১ মে থেকে অল্প কিছু আন্তনগর ট্রেন পুনরায় চালু করা হয়। তবে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলাচল করে। পর্যায়ক্রমে সব আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়। সবার শেষে মেইল ও লোকাল ট্রেন চালু করা হয়। তবে এবার এই পথে হাঁটতে চায় না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা শুরুতেই সব আন্তনগর এবং গুরুত্বপূর্ণ মেইল ও লোকাল ট্রেন চালু করতে চায়।রেলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সামনে ঈদ। অল্প কিছু ট্রেন চালু করলে যাত্রীদের চাপে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। তখন লোকজন গায়ে গা লাগিয়ে যাতায়াত করবে। এতে সমালোচনায় পড়তে হবে। এ জন্য সব ট্রেন একসঙ্গেই চালুর প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুসারে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা থাকার কথা। ৫০ মাইলের বেশি ভ্রমণকারী ট্রেনের ক্ষেত্রে ওই কামরার সঙ্গে একটি শৌচাগার সংযুক্ত থাকবে বলা আছে। সেখানে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে জরিমানা আরোপের কথা উল্লেখ আছে রেলওয়ে আইনের ১১৯ ধারায়। ওই আইনের বিধান অনুযায়ী যাত্রীবাহী প্রতিটি ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট কামরা বরাদ্দ রাখতে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ পারভীন। এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৯ মার্চ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম
মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে নির্দিষ্ট কামরা সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনের ওই দুটি বিধান বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। রেলওয়ে সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার ডেপুটি কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এবার ট্রেন চালুর পরে হাইকোর্টের এই নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করতে পারে রেলওয়ে এমনটা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত