শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৩৬ এএম, ২০২১-০৪-২৭
নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু আগামী বছরের জুনে চালু হওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত সেতুর সার্বিক কাজের যে অগ্রগতি, তাতে এ সময়ে সেতুর সড়কপথ প্রস্তুত করা সম্ভব হলেও রেলপথ বসানোর কাজ শুরুই হয়নি। সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে রেলপথ বসানো শুরু হতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শুধু সেতুর ভেতরে নয়, দুই পাশে সংযোগ রেললাইনের কাজও পিছিয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু চালুর দিনে ট্রেন চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অনিশ্চয়তা আরো প্রকট করে তুলেছে চলমান করোনা পরিস্থিতি।
দ্বিতল পদ্মা সেতুর চার লেনের সড়কের উপর দিয়ে চলবে গাড়ি। আর নিচে স্প্যানের ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। পদ্মা সেতু যেদিন চালু হবে, সেদিন থেকেই ট্রেন চালানোর কথা বলে আসছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। কয়েক দফা পিছিয়ে সর্বশেষ আগামী বছরের জুনে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাজের যা অগ্রগতি, তাতে জুনের মধ্যে সেতুতে রেলপথ বসানোর কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি পদ্মা সেতুর ওপর রেলপথ বসানোর সময় ঠিক করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা করে সেতু বিভাগ। সভায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঠিকাদার, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদারসহ উভয় প্রকল্পের পরামর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সেতুর ওপর রেললাইন বসানোর কাজ আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে শুরু করার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে দুই প্রকল্পের ঠিকাদাররা মিলে রেললাইন বসানোর দিন-তারিখ চূড়ান্ত করবেন।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন সেতুর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসানোর কাজ করা হচ্ছে। সেতু দিয়ে গ্যাসের লাইনও করা হবে। মূলত এ গ্যাসের লাইনটি নির্মাণের কারণেই এখনই সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজটি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সেতু বিভাগের সচিব আরো বলেন, কারিগরিভাবে সেতুর ওপর গ্যাস আর রেললাইনের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। এ কারণে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, গ্যাসের লাইনটি দুই কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে যাওয়ার পর রেললাইন বসানোর কাজ শুরু করা হবে। গ্যাসের লাইনের কাজ অন্তত দুই কিলোমিটার শেষ করে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু করতে অন্তত চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। তবে এ কারণে সেতুটি আগামী জুনের মধ্যে চালু করা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।চলতি বছরের ডিসেম্বরে সেতুর ওপর রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হলে পরের ছয় মাসে তা শেষ করার কাজটিকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে মনে করছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা।
এদিকে পদ্মা সেতু চালুর দিনে ট্রেন চালানোকে আরো চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছে রেল সংযোগ প্রকল্পের ধীরগতি। পদ্মা সেতুর জন্য ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৩৭ শতাংশ।তবে পদ্মা সেতু চালুর দিনেই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চালানোর জন্য মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত অংশটির কাজ সবার আগে শেষ করতে চায় রেলওয়ে। এ অংশের প্রায় ২৭ কিলোমিটার এমব্যাংকমেন্টের মধ্যে ১৩ কিলোমিটার শেষ হয়েছে। সব মিলিয়ে মাওয়া-ভাঙ্গা সেকশনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ।
আগামী জুনের মধ্যে সেকশনটির পুরো কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলাও চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে গত জানুয়ারিতে প্রকল্প কার্যালয় থেকে দেয়া এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান করোনা সংকটে নির্মাণকাজ থেমে না থাকলেও কাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত